কচুয়া আসন সমান তালে প্রচারণায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

59

গেল বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর উজ্জীবিত হয়ে উঠে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের রাজনীতির মাঠ। বিগত ১৭ বছর ভিন্নমতের রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি দেওয়া হলে চলছে হামলা-মামলা। এই আসনের অতীত রাজনৈতিক চর্চা খুবই হিংসাত্মমূলক। বহু মামলায় জর্জরিত ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বাহিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন আওয়ামী লীগের অন্য প্রার্থীরা। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যাওয়ার পর এখন সমান তালে নির্বাচনি প্রচারণায় রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

Advertisement
spot_img

জেলার সীমান্ত উপজেলা কচুয়ার রাজনৈতিক অধিকাংশ নেতাদের অবস্থান রাজধানীতে। কেউ প্রবাস থেকেও ভোটের সময় এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সাধারণ মানুষ সাংসদের কাছে এসে সমস্যার কথা বলা ছিল খুবই কঠিন বাস্তবতা। কারণ এই আসনে পতিত সরকারের সাবেক এমপি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও ড. সেলিম মাহমুদ নির্বাচনি এলাকায় দলকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। তাদের অনুসারী কিছু নেতাই সকল সিদ্ধান্তে এগিয়ে থাকতেন। যার ফলে নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজগুলো সঠিক বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এই আসনে গেল বছর ৫ আগস্টের পরে নির্বাচনি এলাকায় দলীয় ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও তার স্ত্রী জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী নাজমুন নাহার বেবী। বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে আ ন ম এহসানুল হক মিলন কচুয়া থেকে মনোনয়ন না পেলে ঢাকায় পেতে পারেন। তখন তার স্ত্রীকে এই আসনে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে কচুয়ায় তারেক রহমানের ৩১ দফা নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন প্রবাসী বিএনপি নেতা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। এছাড়া আছেন ২০১৮ সালে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মালয়েশিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন। তিনি এলাকায় না আসলেও তার সমর্থকরা মাঠে রয়েছেন। এককভাবে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিছ আবু নছর আশরাফী। আর ইসলামী আন্দোলণ বাংলাদেশ এবং এনসিপির কোনো প্রার্থী এখন পর্যন্ত নির্ধারণ হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই নির্বাচনী এলাকায় ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে জাতীয় পার্টির রফিকুল ইসলাম রনি, ১৯৮৮ সালে একই দলের এ কে এম শহীদুল ইসলাম, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের মেজবাহ উদ্দিন খান, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৮ এর আগ পর্যন্ত ছিলেন বিএনপির আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ২০০৮ সাল থেকে সাংসদ ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ।

চাঁদপুর নির্বাচনী আসন-১ (কচুয়া) ২৬০। শুধুমাত্র কচুয়া উপজেলা নিয়ে এই আসনের সীমানা। চলতি বছরের সর্বশেষ ২০ জুন হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৩৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৬৮ জন। মহিলা ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৬২জন। এর মধ্যে হিজড়া ভোটার রয়েছে ৩ জন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ নম এহসানুল হক মিলন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে সেটি দল ঠিক করবে। কিন্তু অতীতে আমি নির্বাচিত হয়ে কচুয়াবাসীর উন্নয়নে কাজ করেছি। পতিত হাসিনা সরকারের সময়ে বহু মামলা হামলার শিকার হয়েও আমি এখন পর্যন্ত কচুয়ার জনগণের পাশে আছি এবং থাকবো।

প্রবাসী বিএনপি নেতা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, জনাব তারেক রহমান রাষ্ট্র মেরামতের যে ৩১ দফা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সম্ভব একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই ৩১ দফা নিয়ে আমি কচুয়ার জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি, জনগণকে বুঝানোর চেষ্টা করছি দেশ নিয়ে জনাব তারেক রহমানের ভাবনা।
বিশেষত ২৭ তম দফা ফারমার্স কার্ড, ২৫ তম দফা শিক্ষা; জনগণের মধ্যে একটি সাড়া ফেলেছে।

তিনি বলেন, কচুয়ার ২৫২ টি গ্রামের মধ্যে ১৬০ টির ও বেশী গ্রামে আমি গিয়েছি। জনগণ চাচ্ছে একজন সৎ, শিক্ষিত ও ক্লিন ইমেজের তরুণ রাজনীতিবিদ। আমাকে যদি দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়- আমি কচুয়ার বৃদ্ধমান দ্বন্দ্বকে নির্মূল করে, বিএনপির সকল নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ করে; জনগণকে সাথে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ কচুয়া গড়ে তুলব ইনশা আল্লাহ।

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করার জন্য কাজ করছে। কুরআনের আইন বাস্তবায়ন হলে সমাজে সু-শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাবে।

তিনি বলেন, সংগঠন থেকে আমাকে কচুয়া-১ আসনের প্রার্থী মনোনীত করেছে। আমি নির্বাচনী এলাকার জনগণের কাছে সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলছি। আমি শিক্ষকতার পাশাপাশি সব সময়ই মানুষকে কুরআনের পথে আহ্বান করছি। জনগণের রায়ে নির্বাচিত হলে সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করবো ইনশাল্লাহ।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আহমেদ বলেন, চাঁদপুরের ৫টি আসনের কোন আসনেই আমাদের দলের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। জেলা থেকে কেন্দ্রীয় সংগঠনে তালিকা নেয়া হয়েছে। চাঁদপুর-১ কচুয়া আসনেও ৩ জনের নাম দেয়া হয়েছে। প্রার্থী চূড়ান্ত হলে নাম প্রকাশ করা হবে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া বলেন, আমাদের দলের নিবন্ধন ও প্রতীক পেলে প্রার্থী ঠিক করা হবে। চাঁদপুরের কোনো আসনেই এখন পর্যন্ত কেউ কাজ করছেন না।

Advertisement
spot_img