ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে বাস চলাচল বন্ধ

40

ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা বাসস্ট‍্যান্ড এলাকায় জুলাই যোদ্ধাকে হেনস্তার ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ও পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে ঢাকা ময়মনসিংহ সড়কে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের মধ‍্যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement
spot_img

রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে কোন ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই ঢাকা ময়মনসিংহ সড়কের সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

নগরীর মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যাচ্ছে না ইউনাইটেডসহ সৌখিন পরিবহনের অন্তত ৩০০ গাড়ি। এতে অফিসগামী যাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা যাত্রীরা বাস টার্মিনালে এসে পড়েন চরম বিপাকে।

এদিকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের নির্দেশে রোববার সকাল থেকে আবারও ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং নেত্রকোণা, শেরপুর, জামালপুর ও কিশোরগঞ্জের সকল দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে পরিবহন শ্রমিকরা জানান।

অন্যদিকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যেতে না পারায় বিপাকে পড়া যাত্রীরা বলেন, আলোচনার মাধ্যমে দূত এই সমস্যার সমাধান করা হোক।

এদিকে রোববার সকাল ৮টার পর শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দাবিতে অনশন ধর্মঘটের ডাক দেয় কিছু বাস টার্মিনাল পরিবহন শ্রমিকরা। সকল সমস্যার সমাধান ঘটিয়ে রাজনীতি মুক্ত পরিবহন ব্যবস্থারও দাবি জানান তারা।

ঢাকাগামী যাত্রী হাসান বলেন, গতকাল থেকে ঢাকা যাওয়ার চেষ্টা করছি কিন্তু আন্দোলনের কারণে যেতে পারছি না। হুটহাট করে এমন বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত কোন ভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই অন্তত বাসস্ট্যান্ড রাজনীতি মুক্ত থাকুক।

ইউনাইটেড পরিবহনের চালকের সহকারী রুবেল মিয়া বলেন, বাস বন্ধ থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়। কিন্তু এবার বাস বন্ধের যৌক্তিক কারণ রয়েছে। একটি ঘটনা ঘটায় শ্রমিক অরিণ জেলে রয়েছে। তারপরে ১৬টি বাস বন্ধের পাশাপাশি জব্দ করতে হবে এমন দাবি মানার মত নয়। কারণ এসব বাসের সাথে শ্রমিকের রিজিক জড়িত।

হেনস্তার শিকার আবু রায়হান বলেন, প্রশাসন এবং শ্রমিক নেতারা আমাদের দাবি মেনে নেওয়ায় যাত্রী দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে গতকাল কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। আমরা চাই মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডে ফ্যাসিস্টের কোন স্মৃতি চিহ্ন না থাকুক। তবে দাবি মেনে নেওয়ার পর শুনেছি মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড থেকে ইউনাইটেড এবং সৌখিন পরিবহনের কোন বাস ছেড়ে যাচ্ছে না। যাত্রী দুর্ভোগ হলে আবারও আন্দোলনে নামবো।

ময়মনসিংহ জেলা মটর মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম বলেন, এনসিপির কয়েকজনকে সামনে রেখে একটি পক্ষ বিষয়টি বড় করছে। তারা অনৈতিক সুবিধা নিতে প্রায়ই এমন ঝামেলা সৃষ্টি করে। গতকাল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমিনুল হক শামীম পরিচালিত ১৬ বাস বন্ধের পাশাপাশি একটি মনিটরিং টিম গঠন করার সিদ্ধান্ত হওয়ায় বাস চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ঢাকার নেতৃবৃন্দ তা মানতে নারাজ, যার কারণে ইউনাইটেড এবং সৌখিন পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকে। রোববার সকাল থেকে বিভাগের চার জেলাসহ ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাদের দাবি নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ শ্রমিক অরুণের মুক্তি।

Advertisement
spot_img