পাবনার প্রতি শিমুল বিশ্বাসের ভালোবাসা এবং যত ভাবনা

104

পাবনা বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক এবং সম্ভাবনাময় জেলা, যার মাটি, মানুষ, সংস্কৃতি এবং সংগ্রাম সবই এক বিশেষ পরিচয়ের দাবিদার। এই জনপদের প্রতি একজন মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, নিরলস কাজ এবং আদর্শবান নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। রাজনীতির ময়দানে যখন ব্যক্তিস্বার্থ, লুটপাট ও ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা চোখে পড়ে, তখন শিমুল বিশ্বাস হচ্ছেন ব্যতিক্রম এক নাম একজন সেবাধর্মী রাজনীতিক, যিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাজনীতিকে পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে দেখেন।

Advertisement
spot_img

সেবামূলক নেতৃত্বের সূচনা

অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইসাথে তিনি এবি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, যার মাধ্যমে তিনি অসংখ্য সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান

শিক্ষাকে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিশ্বাস করেন শিমুল বিশ্বাস। তিনি প্রায় ৩৫০০ গরিব শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে এবং অত্যন্ত স্বল্প খরচে পড়ালেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে এই সুবিধা দেওয়া। তিনি বর্তমান বাজারমূল্যে আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার বেশি পারিবারিক সম্পত্তি দান করেছেন শিক্ষার জন্য।

কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতা

তিনি গরিব ও অসহায় মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছেন। নারীদের জন্য দিয়েছেন শেলাই মেশিন, যাতে তারা জামা কাপড় সেলাই করে উপার্জন করতে পারেন। গরীব পরিবারকে দিয়েছেন গাভী, যাতে তারা দুধ বিক্রি করে সংসার চালাতে পারে।

পুরুষদের জন্য তিনি দিয়েছেন অসংখ্য রিকশা, ভ্যান যার মাধ্যমে তারা আত্মনির্ভরশীলভাবে জীবন চালাতে পারেন। এই উদ্যোগগুলো শুধু অর্থনৈতিক মুক্তিই দেয়নি, মানুষের মর্যাদাকেও ফিরিয়ে দিয়েছে।

শ্রমিকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা তাঁর ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বিশ্বাস করেন—শ্রমিক নিপীড়নের শিকার নয়, বরং উন্নয়নের চালিকাশক্তি। সে অনুযায়ী ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, এবং সামাজিক নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর রেখেছেন।

খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা

রমজান মাসে যখন সবাই নিজের জন্য কেনাকাটায় ব্যস্ত, তখন শিমুল বিশ্বাস নীরবে খাবার তুলে দিয়েছেন অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের হাতে। রমজানের বাজার, ঈদের খাদ্যসামগ্রী এমনকি অন্যান্য সময়েও তিনি চালিয়ে গেছেন গরিবদের বাজার দেওয়ার মতো সামাজিক উদ্যোগ।

কুরবানির ঈদে তিনি ৫০০ জনের হাতে গরুর মাংস পৌঁছে দিয়েছেন যাতে কেউ ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়।

স্বাস্থ্যসেবার দিকেও রয়েছে তাঁর অসাধারণ অবদান। অসহায় মানুষের জন্য ফ্রিতে চিকিৎসা ও চোখের অপারেশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে বিভিন্ন মেডিকেল ক্যাম্প হয়েছে, যেখানে মানুষ বিনামূল্যে ওষুধ, ডাক্তারের পরামর্শ ও অপারেশন পেয়েছেন। পাবনা মানসিক হাসপাতাল আধুনিকায়ন এবং সদর হাসপাতালে কিডনি ডায়লাইসিস ও ক্যান্সার চিকিৎসার দাবি তিনি সরাসরি উত্থাপন করেছেন।

ধর্মীয় ও নৈতিক উন্নয়ন

তিনি নিজেই একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ। পাবনার বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি ৯০টিরও বেশি মসজিদ নির্মাণ করেছেন এবং অনেক মসজিদের সংস্কার করেছেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের মাধ্যমে তিনি সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছেন।

অবকাঠামো ও উন্নয়ন ভাবনা

শিমুল বিশ্বাসের চিন্তার ভেতর শুধু ব্যক্তি নয়, গোটা অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় জনমতের ভিত্তিতে ১৬টি উন্নয়ন পরিকল্পনা জনগণের সামনে উত্থাপন করেছেন:

1. কাজিরহাট-আরিচা-রাজবাড়ী Y টাইপ সেতু প্রকল্প
2. পদ্মা-যমুনা সংযোগস্থলে পানি সংরক্ষণ ব্যারেজ
3. ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু
4. ফেরিঘাট চালু (কাজিরহাট-খায়েরচর)
5. পাবনা-ঢাকা এক্সপ্রেস ট্রেন চালু
6. পাবনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
7. মিল-কারখানা পুনঃচালু ও ক্ষুদ্র শিল্প ঋণ
8. শহরের যানজট নিরসনে চার লেন সড়ক
9. ইছামতি নদী প্রকল্প ও ক্ষতিপূরণ
10. পাবনা সদর হাসপাতাল আধুনিকায়ন ও নতুন হাসপাতাল
11. আন্তঃজেলা সড়ক উন্নয়ন ও গ্যাস সংযোগ
12. তাঁত শিল্পে সরকারি প্রণোদনা
13. বেকারদের জন্য হাঁস-মুরগি ও মাছ প্রকল্প
14. স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন
15. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ও আইসিটি কেন্দ্র
16. গ্রাম ও শহরের সামাজিক উন্নয়ন

সুপেয় পানি ও পরিবেশ

পাবনার বিভিন্ন গ্রামে তিনি সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছেন। স্বাস্থ্যসম্মত পানি যেন প্রতিটি দরিদ্র ঘরে পৌঁছে যায়, সেই লক্ষ্যে তিনি টিউবওয়েল বসিয়েছেন। পাশাপাশি গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রেখেছেন।

কর্মঠ, বিনয়ী ও সহানুভূতিশীল

তিনি এত বড় একজন মানুষ হয়েও কোনো সাধারণ মানুষের আবদারকে উপেক্ষা করেন না। কেউ যদি চাকরির সুপারিশ চান, তাহলে তিনি লজ্জাবোধ না করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তাঁর সুপারিশে প্রায় ৮০০-১২০০ জন মানুষ বিনামূল্যে সরকারি চাকরি পেয়েছেন এবং অসংখ্য বেসরকারি চাকরি নিশ্চিত হয়েছে।

একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ পাবনার স্বপ্ন

তিনি বিশ্বাস করেন রাজনীতি ক্ষমতা নয়, এটা আমানত। আর এই আমানতের হিসাব দিতে হয় জনগণের কাছে। তিনি ঘৃণা করেন:

* অন্যায়
* চাঁদাবাজি
* মিথ্যা ও প্রতারণা
* দুর্নীতি ও দখলবাজি
* ভোগবিলাস
* মুখোশধারী রাজনীতি
* সাম্প্রদায়িকতা ও দমন-পীড়ন

তিনি ভালোবাসেন:

* শিক্ষা ও কর্মসংস্থান
* স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন
* নারীর নিরাপত্তা
* প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তি
* শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির সমাজ

একটি বার্তা, একটি প্রতিজ্ঞা

শিমুল বিশ্বাস বলেন:

“ভবিষ্যতের নেতৃত্ব হোক ন্যায়ের পথে,
সৎকর্ম হোক শক্তি, বিশুদ্ধ হোক চিন্তাধারা।
আদর্শের দীপ্তিতে গড়ি নতুন সমাজ।”

তিনি মনে করেন, পাবনা শুধু একটি জেলা নয় এটি একটি দায়িত্ব। এই জনপদের প্রতিটি মানুষ যেন উন্নয়নের ছোঁয়া পায়, শিক্ষার আলো পায়, সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে এই হল তাঁর স্বপ্ন।

উপসংহার

আজ যখন সমাজ নানা দিক দিয়ে হতাশ, তখন শিমুল বিশ্বাসের মতো একজন নিঃস্বার্থ, সাহসী ও কর্মীবান্ধব নেতার প্রয়োজন সর্বত্র। তাঁর জীবন, তাঁর চিন্তা, তাঁর কর্ম, তাঁর পরিকল্পনা এবং তাঁর ভালোবাসা এসবই ভবিষ্যতের পাবনার জন্য একটি আলোকবর্তিকা ইনশাআল্লাহ।

 

Advertisement
spot_img