
মর্নিং নিউজ :
নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না হুন্ডির ব্যবসা।বিদেশ থেকে প্রতিদিনে আসছে হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা। দেশ থেকেও বিদেশে যাচ্ছে এ টাকা। মাঝে মাঝে বাংলাদেশ ব্যাংক হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার পর ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে নতুন কৌশলে চলছে জমজমাট হুন্ডি ব্যবসা। হুন্ডি ব্যবসায় শুধু রাষ্ট্রেরই আর্থিক ক্ষতি হয় না, বরং প্রতারিত হয় গ্রাহকরাও- এই উপলব্ধিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জনসাধারণকে হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন না করার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনাও জারি করেছে। কিন্তু এসব পরামর্শ ও ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনা বিফলে যাচ্ছে।
এ দিকে দুবাই, ওমান, সৌদি আরব সহ আরব রাষ্ট্রগুলো থেকে প্রবাসীরা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার নিজের বাড়িতে পাঠায়। এ সব টাকা অধিকাংশ পাঠানো হয় হুন্ডির মাধ্যমে। সরকার যারা ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে টাকা বাংলাদেশে পাঠাবে তাদের জন্য ২ % ইনসেনটিভ প্রদান করে থাকে।এই খবর অনেক প্রবাসী ও জানেনা ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে টাকা পাঠালে তাদের লাভ হবে। এইসব নিয়ে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো কোন প্রথার চালায় না বিধায় ব্যাংকের মাধ্যমে না পাঠিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা গুলো সহজ ভাবে পাঠিয়ে দেয় প্রবাসীরা।
বিদেশে দূতবাস গুলো একটু উদ্দেশ্য নিলে এবং ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে লাভ তাদের এ কথা গুলো প্রচার করলে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসতো।ইউএই আইন কে প্রবাসীরা যেভাবে ভয় পাই দূতবাসের কর্মকর্তারা ঐ দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে দেখা করে ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ এর মাধ্যমে টাকা পাঠানোর জন্য একটি সার্কুলার জারি করলে বাঙালিরা আর হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাবে না। ভয়ে ব্যাংক ও মানিয়ে এক্সচেঞ্জ এর মাধ্যমে টাকা পাঠাবে দেশে।
এ ছাড়াও চোরাই পথে আনা গরুর মূল্য শোধ করা হচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে। ঘটনা ঘটছে এভাবে- বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাংকিং চ্যানেল বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা সিন্ডিকেটের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। ওই সিন্ডিকেট টাকা রেখে দিয়ে এর বিনিময়ে চোরাই পণ্য, বৈদেশিক মুদ্রা, মাদকদ্রব্য ইত্যাদিসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে গরুর দেনা শোধ করছে। আর এভাবেই পাচার হয়ে যাচ্ছে টাকা।
প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ির পরও কীভাবে সম্ভব হচ্ছে হুন্ডি ব্যবসা? অবশ্য নতুন পদ্ধতির হুন্ডি ব্যবসার খবর পাওয়া গেছে সাম্প্রতিক সময়ে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে পাওয়া গিয়েছিল গত বছর ১২টি ব্যাংকের মাধ্যমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছিল। এর আগের বছর হুন্ডির মাধ্যমে দুই হাজার ৭৮৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদন্তে এসব ঘটনা ধরা পড়ার পর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সত্য, কিন্তু হুন্ডি ব্যবসা থেমে নেই, উদ্ভাবন করা হয়েছে নতুন কৌশল। এই কৌশলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার আড়ালে সীমান্তের ব্যাংকগুলোতে চলে যাচ্ছে টাকা। ওই টাকা নগদ আকারে তুলে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট হুন্ডি ব্যবসায়ীরা আর সমপরিমাণ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে বিভিন্ন পণ্য। এই প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেনে ভারত ও মিয়ানমারের তিন কিলোমিটার ভেতরে বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
নতুন কৌশলে হুন্ডি ব্যবসার বিষয়টি দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। হুন্ডির মাধ্যমে কত টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে, তার প্রকৃত হিসাব সরকারের কোনো সংস্থার কাছেই থাকে না। ফলে হুন্ডি ব্যবসা বন্ধে নিতে হবে জোরালো পদক্ষেপ। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট ও সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিকে বিষয়টি মনিটর করতে হবে। সীমান্ত এলাকার ব্যাংকগুলোতে টাকার প্রবাহ কেন বেড়ে যাচ্ছে, এসব টাকার উৎসই বা কী ইত্যাদি বিষয় যথাযথভাবে মনিটর করে হুন্ডি ব্যবসার গোপন রহস্য সহজেই উন্মোচন করা সম্ভব।