নিত্যপণের লাগামহীন মূল্যে নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জীবন বিপর্যস্ত

143
 মর্নিং নিউজ:
 

নিত্যপণের লাগামহীন মূল্যে নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।কেউ কাউকে কিছু বলতে পাচ্ছেনা।বাজারের অবস্থা দেখে খালি হাতে ফিরে আসছে অনেকে।

নিত্যপণ্যের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। বর্তমানে বাজারে দাম কমার থেকে বাড়ার তালিকাই বেশি।

Advertisement
spot_img

সামনে ঈদুল আজহা।  এমন আবহে নিত্যপণ্যের বাজারে একরকম অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
মানুষের ওপর চেপে বসেছে দ্রব্যমূল্য বাড়ার এ প্রভাব। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত বাজার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ব্যবস্থা থাকলেও এর সুফল দেখা যাচ্ছে না বাজারে।

কাঁচাবাজারের লাগামহীন মূল্যে নিম্ন আর মধ্যম আয়ের মানুষের জীবন এখন বিপর্যস্ত।

ফলে সাধারণ মানুষ; বিশেষ করে খেটেখাওয়া মেহনতি মানুষের নাভিশ্বাসের উপক্রম। কিছুদিন আগেও ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেপের দাম বেড়ে এখন ৭০ টাকা। সব মিলিয়ে সবজি কেনাও এখন সাধারণ মানুষের জন্য দুরূহ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পণ্যের মূল্য কমার চেয়ে দিন দিন মূল্যবৃদ্ধির তালিকার বহর আরও দীর্ঘ হচ্ছে। পেপে, লাউ, করোলার মতো সবজি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আমিষের উৎস হিসেবে পরিচিত ডিমের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি চিনি কিনতেও ক্রেতাকে বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।

কিছুদিন আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া খোলা চিনি বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। পেঁয়াজ কেজিতে ২৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০ -৭০ টাকায়।শুক্রবার (৫ মে) চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে  এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরকারি তথ্য মতে, আলু, দেশি ও আমদানি পেঁয়াজ, দেশি রসুন, দেশি ও আমদানি আদা, জিরা, দারুচিনি, তেজপাতা, চিনি এবং ডিমের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে সরু ও মাঝারি চাল, বড় ও ছোট মশুর ডাল, আমদানি করা রসুন, দেশী হলুদ, ধনে এবং ব্রয়লার মুরড়ির মূল্য হ্রাস পেয়েছে।

পাশাপাশি ভোজ্যতেলের দামও বেড়েছে হুহু করে। প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১২ টাকা বেড়ে ১৯৯ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আটা-ময়দা, মাছ-মাংস, পেঁয়াজ, আদা-রসুনের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাশাপাশি এক বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ১৬৩ দশমিক ১৬ শতাংশ দাম বেড়েছে আমদানি করা আদায়, যা বর্তমানে প্রতি কেজি ১৮০-৩২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগেও আমদানি করা আদার দাম ছিল মাত্র ৭০ থেকে ১২০ টাকা।

এক মাসে সর্বোচ্চ দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে দেশি নতুন রসুন। গেল এক মাসে এর দাম বেড়েছে ৫৫ শতাংশ।
বর্তমানে দেশি নতুন রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১৩০-১৮০ টাকা, যা এক মাস আগেও ছিল মাত্র ৮০ থেকে ১২০ টাকা। বাজারে হঠাৎ দেশি রসুনের দাম বেড়ে যাওয়াতে ক্রেতারা একপ্রকার ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

মূলত কোরবানির ঈদের আগে মসলার দাম বাড়ানোর পরিকল্পনায় ব্যবসায়ীরা বাজারে সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ ক্রেতা সাধারণের।

দাম বাড়ার তালিকায় বাদ যায়নি অতি প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য ডিম। এ ছাড়া শিশুখাদ্য হিসেবে ডিমের চাহিদা অনেক। মধ্যবিত্ত পরিবারে মাছ-মাংসের চাহিদা কমিয়ে ডিমের ওপর নির্ভর করলেও এখন সেখানে মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত।

সরকারি হিসাবে গত এক বছরে প্রতি হালি (লাল) ডিমের দাম ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহ খানে আগে ১২০-১৩৫ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিম বর্তমানে এলাকা ভেদে ১৫-২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৪৮ টাকা পর্যন্ত।

Advertisement
spot_img