চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্র গুলো প্রস্তুত 

145
ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ আগামী বৃহস্পতিবার। আর ঈদ মানেই বিনোদনপ্রিয় মানুষের প্রাণবন্ত হয়ে ওঠা। যা মাথায় রেখে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সি-বিচ, পারকি সমুদ্রসৈকত, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, ফয়’স লেকসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে এখন সাজ সাজ রব।
কারণ ঈদের দিন থেকে এসব দর্শনীয় স্থানে জমবে মানুষের ভিড়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভিড় জমবে নগরীর পতেঙ্গা সি-বিচে। যেখানে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। সোমবার সকালে এমনটাই মত দিলেন পতেঙ্গা সি-বিচের তত্ত্ববধায়ক সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান বিন শামস।
তিনি বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঈদের দিন থেকে পরবর্তী এক সপ্তাহ পর্যন্ত মানুষের ভিড় জমবে। এ জন্য পতেঙ্গা সি-বিচ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রায় ৯-১০ কিলোমিটার পতেঙ্গা সি-বিচ এলাকাকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত ৫-৬ বছর ধরে পতেঙ্গা সি-বিচে অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। এতে উন্নত বিশ্বের মতো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে পতেঙ্গা সি-বিচ। এরপর থেকে এই সি-বিচে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। করোনাকালেও নগরীর সবস্থানে জনসমাগম ঠেকানো গেলেও সি-বিচে ঠেকানো যায়নি। পুলিশ ও র‌্যাবের মাধ্যমে কিছুটা হয়তো নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছিল।
তিনি বলেন, গত রমজানের ঈদেও পতেঙ্গা সি-বিচে উপচেপড়া ভিড় জমেছিল ভ্রমণ পিপাসু মানুষের। আশা করছি, এই কুরবানির ঈদেও তাই ঘটবে। এই ধারণা থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পতেঙ্গা সি-বিচ এলাকার মার্কেট, হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে খাবার সুবিধা নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। মার্কেটগুলোতে কেনাবেচার প্রয়োজনীয় পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
একইভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত পারকি সমুদ্রসৈকতেও ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ঢল নামবে বলে জানিয়েছেন সৈকত কমিটির সাধারণ সম্পাদক বারশত ইউপি চেয়ারম্যান কাইয়ুম শাহ। তিনি বলেন, পতেঙ্গা সি-বিচের পাশাপাশি এই সৈকতে প্রতি বছর ঈদে অর্ধ লাখেরও বেশি ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ভিড় জমবে। যা এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বিষয়টি মাথায় রেখে এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঈদে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ের বিষয়টি মাথায় রেখে পারকি সমুদ্রসৈকতকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এখানে ঝাউবন রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর পর্যটকদের খাবার-দাবারসহ নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই সৈকতে রাতে অবকাশযাপনের কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া এই সৈকতে প্রবেশে কোনো ফি নেওয়া হয় না।
এদিকে ঈদের মিলনমেলা বসার ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়ও। চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, প্রতি বছর ঈদে এই চিড়িয়াখানায় অন্তত ৩০-৪০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। রোজার ঈদেও ঘটেছিল। বিষয়টি মাথায় রেখে এবার কুরবানির ঈদেও চিড়িয়াখানাকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই চিড়িয়াখানা গত দুই দশক আগে প্রায় মৃত হয়ে পড়ে। সেখান থেকে তিলে তিলে টেনে তোলা হয়েছে এই লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে। বর্তমানে এটি একটি লাভজন প্রতিষ্ঠান। এই চিড়িয়াখানায় এখন পশুর সংকট নেই। বাঘ, সিংহ, হরিণ, ভল্লুকসহ নানা প্রজাতির বন্য পশু এখন এই চিড়িয়াখানায় রয়েছে। যা দেখতে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার মানুষ আসে। আর ঈদের সময় অর্ধ লাখের মতো হয়। আর ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য এই চিড়িয়াখানাকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে।

চিড়িয়াখানার পাশাপাশি নতুন সাজে সজ্জিত হয়েছে চট্টগ্রাম ফয়’স লেক। প্রতি বছর ঈদে এই লেকেও বসে অর্ধ লাখ মানুষের মিলনমেলা। ফয়’স লেক কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার মানুষের সমাগম আরও বাড়বে। কারণ এখন যে হারে গরম অনুভূত হচ্ছে, সেখান থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে প্রাকৃতিক এই লেকে ছুটে আসবে মানুষ।
আর বিষয়টি মাথায় রেখে এই দর্শনীয় স্থানের লেকটি আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। লেকের চার পাশে থাকা উঁচু-নিচু পাহাড়ি টিলা ও গাছপালা সাজানো হচ্ছে। যেখানে ছুটে আসা মানুষ নিশ্চিত প্রশান্তি অনুভব করবে বলে জানান ফয়’স লেকের তত্ত্বাবধায়ক মো. বাহার উদ্দিন।
একইভাবে চট্টগ্রাম মহানগরীর মিনি বাংলাদেশ হিসেবে খ্যাত বহদ্দারহাট স্বাধীনতা কমপ্লেক্সও সাজছে নতুন সাজে। একইভাবে সাজছে চট্টগ্রাম শিশু পার্ক, জাম্বুরি মাঠসহ অন্তত ১০-১২টি দর্শনীয় স্থান। যেখানে ঈদের দিন থেকে মানুষের মেলা জমবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মো. খাইরুজ্জামান।
তিনি বলেন, ঈদের মিলনমেলার বিষয়টি মাথায় রেখে ইতিমধ্যে নগরীর দর্শনীয় স্থানগুলোকে বর্ণিল সাজে সাজানো হচ্ছে। চট্টগ্রামের মানুষ এমনিতে ভ্রমণ পিপাসু। ঈদের নামাজের পর দিনের অর্ধেক সময় কুরবানির গোশত নিয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় কাটালেও বিকাল থেকে দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভিড় জমাবে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিএমপির সার্বিক প্রস্তুতি ও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
সিএমপির কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ঈদের দিনে নগরীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান যাতে মানুষের মিলনমেলা বসতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো রকম ব্যাঘাত না ঘটে সেভাবে পুলিশ প্রশাসনেক প্রস্তুত রাখার কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি এসব স্থানের মিলনমেলায় কোনো রকম ব্যাঘাত ঘটবে না।
linkedin sharing button

 

Advertisement
spot_img
Advertisement
spot_img