
“ইভ টিজিং” এই শব্দটির সাথে কম বেশী সবাই পরিচিত। তবে মেয়েরা বেশী পরিচিত। করণ স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, বাসে, রিকশায়, রাস্তায় চলাচলের সময় অথবা বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে আড্ডা দেয়ার সময়ে ইভ টিজিং এর শিকার হয় মেয়েরা। স্বাভাবিক ভাবে ইভ টিজিং বলতে চোখের সামনে এমন এক চিত্র ভাসে যেখানে কিছু স্কুল পড়ুয়া মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে পাশ থেকে বখাটে ছেলেরা বাজে মন্তব্য করছে, শিস দিচ্ছে। আসলেই কি বিষয়টা এখানেই সীমাবদ্ধ? নাহ! বাস্তবে বিষয়টা এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশে ইভ টিজিং অন্যতম একটি সামাজিক ব্যাধি৷ ইভ টিজারারা হয়ে উঠছে বেপরোয়া ৷ তাদের শিকার হয়ে মেয়েরা অনেক সময় আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে ৷ হত্যারও শিকার হচ্ছে তারা ৷ প্রতিরোধে আইনও আছে, তারপরও থামছে না ইভ টিজিং৷

“ইভটিজিং” নারী নিগ্রহ ও উত্যক্ত নির্দেশক কাব্যিক শব্দ মনে হলেও এর পরিধি এবং ভয়াবহতা ব্যাপক। ব্যাপক অর্থে ইভ টিজিং বলতে কোনো মানুষকে বিশেষ করে কোনো নারী বা তরুণীকে তার স্বাভাবিক চলাফেরা বা কাজকর্ম করা অবস্থায় অশালীন মন্তব্য করা, ইঙ্গিতপূর্ণ ইশারা দেয়া, ভয় দেখানো, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা, তার নাম ধরে অকারণে ডাকা এবং চিৎকার করা, বিকৃতি নামে ডাকা, কোনো অশালীন শব্দ করা, শীস দেয়া, রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে, যানবাহনে বা জনবহুল স্থানে ইচ্ছে করে ধাক্কা লাগানো, কোনো কিছু ছুড়ে দেয়া, ব্যক্তিত্বে লাগে এমন কোনো মন্তব্য করা, ধিক্কার দেয়া, তাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করা, পথ আগলে দাঁড়ানো, সিগারেটের ধোঁয়া গায়ে ছাড়া বা কবিতাংশ আবৃত্তি করা, চিঠি লেখা, প্রেমে সাড়া না দিলে হুমকি প্রদান ইত্যাদি ইভটিজিং এর মধ্যে পড়ে। শুনতে খারাপ লাগলে এ কথাটাও সত্য অনেক শিক্ষিত লোকজন আছে যারা নানান ভাবে নারীদের ইভ টিজিং করে।
অফিসে একজন নারী সহকর্মীকে হেয় করে কথা বলা সেটাও ইভটিজিং,পুরুষ শিক্ষক নারী শিক্ষার্থীকে অবজ্ঞা করে করে কিছু বললে, কোনো দায়িত্ব থেকে ‘নারী’ বলে কাজটি করতে পারবে না এ বিশ্বাসে সরিয়ে রাখলে- সেটাও ইভটিজিং। বাসে মহিলা সিট খালি নেই বলে তাকে বাসে উঠতে না দেয়া, এমনকি পরিবারের বাবা ঠাট্টার ছলে মাকে বললেন, “মহিলারা কম বুঝে” এটাও ইভটিজিং। এভাবে প্রতিনিয়ত জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন তৈরি করাও ইভটিজিং। কিন্তু বর্তমানে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার যুগে ইভটিজিং এর ধরন পরিবর্তন হয়েছে। শুধু স্কুলে যাওয়ার পথে কিংবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে,অথবা একটু সাইড দিবেন বলে গায়ে স্বইচ্ছায় ধাক্কা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখন মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ফেইসবুক, মেসেঞ্জার, হটসঅ্যাপ, ইমো, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির দ্বারা অভিনব কৌশলে ইভটিজিং করা হচ্ছে।
ইভ টিজিং (Eveteasing) মূলত এক ধরনের ইউফেমিজম (Euphemism) অর্থাৎ উত্ত্যক্ত করার আড়ালে থাকে যৌনতার নির্লজ্জ প্রবৃত্তি। ‘ইভ’ শব্দটি বাইবেলের ইভ(Eve) বা পবিত্র কোরআনের ‘হাওয়াকে’ বোঝায়। অন্যদিকে টিজিং শব্দটির আভিধানিক অর্থ ‘পরিহাস বা জ্বালাতন’। সুতরাং ‘ইভ’ বলতে বুঝায় নারী বা রমণী এবং টিজিং বলতে বুঝায় উত্ত্যক্ত বা বিরক্ত করা। তবে, আধুনিক সমাজে ‘ইভ টিজিং’ শব্দটি ‘যৌন হয়রানি'(Sexual Harassment) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। “‘Oxford Dictionary”‘-তে এজন্য ‘ইভ টিজিং’ শব্দটির অর্থ করা হয়েছে “Harassment of,or sexually aggressive behavior toward women or girls”. যৌন হয়রানি হচ্ছে সেই ধরনের কর্মকাণ্ড ও আচরণ যা মানুষের যৌনতাকে উদ্দেশ্য করে মানসিক ও শারীরিকভাবে করা হয়। ইভ টিজিং ভারতে ৬০-এর দশকে প্রথম মনোযোগ পায় গণমাধ্যমে, কিন্তু এটা আসলে বিপদজনকভাবে বৃদ্ধি লাভ করে পরবর্তী দশকে অর্থাৎ ৭০ দশকে যখন অধিকসংখ্যক মেয়েরা বিদ্যালয় ও কর্মক্ষেত্রে যেতে থাকে ঐতিহ্য পরিপন্থী হয়ে পুরুষের সাহচর্য ছাড়া।
তবে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে ইভটিজিংকে বলা হয় সেক্সুয়াল হেরাসমেন্ট। এ সেক্সুয়াল হেরাসমেন্টের জন্ম আমেরিকায়। শব্দটি প্রথম পরিচিতি পায় ১৯৭৫ সালের দিকে।মুসলিম প্রধান দেশ প্রাতিষ্ঠানের রাজনীতিবিদ বা নীতিনির্ধারকগণ তা দেখতে বা বুঝতে আরো একটু বেশি সময় নিতে থাকেন। বাংলাদেশে ১৯৭৬ সালে “দ্যা ঢাকা মেট্রোপলিটিন পুলিশ ইভটিজিং নাম পরিবর্তন করে “ওমেন টিজিং” নাম দিয়ে একে সংজ্ঞায়িত করেন। দেশব্যাপি ব্যাপকতর এই ইভটিজিংয়ের পেছনে রয়েছে নানাবিধ কারণ।
এর মধ্যে কতগুলো কারণ হলো-
১/সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পারিবারিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
২/নারীকে পণ্য ও ভোগবস্তু হিসেবে মনে করা এবং পরবর্তীতে ব্যবহার করা।
৩/নারীর পোশাক ও চলাফেরার প্রতি উগ্র দৃষ্টিভঙ্গি
৪/ মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতা।
৫/স্যাটেলাইট টিভির অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত প্রদর্শন।
৬/ সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার অভাব।
৭/পিতামাতার অসচেতনতা।
৮/ রাজনৈতিক দাপট।
৯/ অসৎ সঙ্গ, মাদকাসক্তি, বেকারত্ব ও অশিক্ষা।
১০/ লিঙ্গ বৈষম্যমূলক সামাজিক ব্যবস্থাপনা।
১১/ শিক্ষা ব্যবস্থায় সুস্থ চরিত্র গঠন উপযোগী শিক্ষা বাস্তবায়ন না হওয়া।
১২/সুনির্দিষ্ট আইনের প্রয়োগ না থাকা।
ইভটিজিং প্রতিরোধে নিচের করণীয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে-
১/সন্তানের বেড়ে ওঠা এবং সামাজিকীকরণে পরিবারের যথাযথ ভূমিকা পালন করা।
২/সামাজিক আন্দোলন ও প্রতিরোধ জোরদার করা।
৩/ ইভটিজারদের সামাজিকভাবে বয়কট করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া।
৪/মোবাইল, ইন্টারনেট ও মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করা।
৫/সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকর ভূমিকা পালন করা।
৬/নারীর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা।
৭/ সুস্থ বিনোদন ও সংস্কৃতির চর্চা করা।
৮/নারীদের পোশাক ও চলাফেরা নিশ্চিত করা।
৯/ অশ্লীল চলচ্চিত্র, সাহিত্য, যৌন বিকার ও অপসংস্কৃতির আগ্রাসন রোধ করা।
১০/বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
১১/নারীদের আত্মপ্রত্যয়ী হতে সাহায্য করা
১২/ সমাজের প্রভাবশালী ও রাজনীতিবিদদের চোখ রাঙ্গানো দমাতে হবে এবং
১৩/প্রশাসনের সকলকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা
বর্তমানে গণমাধ্যমে ইভটিজিং এর যে ধরণ এবং মাত্রা দেখা যাচ্ছে তাতে আমাদের সমাজে মূল্যবোধের যে চরম অবক্ষয় হচ্ছে তা প্রকট হয়ে ফুটে উঠছে। ইভটিজিং এর শিকড় অনেক আগে থেকেই আমাদের সমাজে বিদ্যমান ছিল। সেটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে অবশ্য বেশ কিছু বছর আগে থেকে। অনেক জ্ঞানপাপী নারীদের পোশাক পরিচ্ছেদ চাল-চলন নিয়ে কথা বলেন, তাদের বলতে চাই- নুসরাত তো হিজাব পড়তো, পোশাকে ছিলো শালীনতাপূর্ণ তাহলে সে কেন ধর্ষিত হলো? এবং তাও ধর্মীয় পোশাকধারী এক হুজুর দ্বারা। তাই বলতে পারি মানুষের ধর্মীয় পোশাকের আড়ালেও থাকতে পারে তার বিকৃত মন, বিকৃত চেহারা। আসলে আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গির আগে পরিবর্তন করতে হবে। নারীকে অবজ্ঞার চোখে দেখার অবসান ঘটাতে হবে। প্রতিটি পরিবারে ছেলে সন্তান আর মেয়ে সন্তানকে সমান দৃষ্টিতে দেখতে হবে, সমান সুবিধে ও স্বাধীনতা দিয়ে বড় করতে হবে যাতে মেয়েদের প্রতি ছোট সময় থেকেইে শ্রদ্ধাবোধ জন্ম নেয়।
নিজের পরিবারের প্রতিটি শিশু এমন ধারণায় অটুট হয়ে বড় হলে সমাজের জন্য অন্য মেয়েদের প্রতি তার সম্মানবোধ গড়ে উঠবে। সে তখন নারীদের নারী নয় একজন মানুষ হিসেবে দেখবে। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ইভটিজিং এর শিকার নারীদের অনেকটা অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়, ভাবখানা এমন যে তুই ওড়নাটা ঠিকমতো পড়লে বা টি-শার্ট কিংবা ফতুয়া পড়ে বাইরে না গেলে এমনটা হতো না। কিন্তু শাড়ি আর সেলোয়ার কামিজ পড়া মেয়েরাও কি নিগৃত হচ্ছে না? আচ্ছা, ছোট ছোট ঐ মাসুম বাচ্চা গুলোর কি অপরাধ? ওদের পোশাক ও কি দৃষ্টিকটূ? চলাফেরায় সমস্যা? তাহলে এই বাচ্চা গুলো কেনো ধর্ষণ হচ্ছে কোনো উত্তর আছে? ইভটিজিংয়ের মাত্রা বাড়তে থাকলে একসময় পৌঁছে এসিড সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধে। সুতরাং আমাদের এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। নারীর পোশাকই শুধু মাত্র ইভ টিজিং এর অন্যতম কারণ নয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে আজ পুরুষের পাশাপাশি এক বিরাট অংশ নারী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অথচ নারীর স্বকীয়তা বিকাশে এবং সফলতার পথে অনেক ক্ষেত্রেই অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় ইভটিজিং। অনেক সম্ভাবনাময়ী নারী শিশু এবং কিশোরী বয়সেই ঝড়ে যাচ্ছে ইভটিজিং এর মত ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধির সংক্রামণ। এ ব্যাধি যাতে মহামারী আকার রূপ নিতে না পারে তাই ইভটিজিং এর প্রতিকার করা আজ সময়ের দাবি।
ইভটিজিং এর ভয়াবহ ছোবল থেকে সমাজকে রক্ষার্থে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে প্রতিটি পরিবার। কারণ পরিবার থেকেই ভালো মন্দের তফাৎ বা নৈতিক শিক্ষার প্রাইমারি ধারণা পেয়ে থাকি আমরা। ছোট সময় থেকেই নৈতিক শিক্ষায় দীক্ষিত করতে হবে। এ থেকে পরিত্রাণ ঘটাতে না পারলে সামাজিক অবক্ষয় চূড়ান্ত রূপ ধারণ করবে। ইভটিজিং রোধে শিক্ষক সমাজও উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে পারে। আপনার সন্তানকে পারিবারিক নৈতিকতা শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করুণ। পবিত্র কুরআনে আছে- ‘‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।’’ (সুরা বনী ইসরাঈল- ৩২)
ইভটিজিংয়ের শিকার অনেক তরুণী লজ্জায় ঘৃনায় আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে আর যারা বেঁচে আছে তাদেরকে সমাজ আঁড় চোখে দেখছে। ফলে অনেক সম্ভাবনাময় জীবন আজ কোনঠাসা হয়ে নিজেকে আড়াল করে রাখছে গৃহকোনে। পরিবারের সদস্যরাও অনেক সময় তাকেই দোষারোপ করে। এখনও আমাদের সমাজে অনেক নারী নিজ যোগ্যতায় সাফল্য অর্জন করলেও এই সফলতার পিছনে বিভিন্ন চারিত্রিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে তাকে টিজ করা হয়। এ কারণে এখনও অনেক সম্ভাবনাময় নারী কর্মক্ষেত্রে নিজেকে সুযোগ্যভাবে তুলে ধরতে দ্বিধাবোধ করে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের রাষ্ট্র, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের দেশ। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সমাজ থেকে ইভটিজিং প্রতিকার করতে হবে সর্বাগ্নে। আর এ কাজে প্রতিটি নারীকে সমবেতভাবে কণ্ঠস্বর তুলতে হবে। নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে প্রতিটি নারী নিজেকে স্মার্ট বা আধুনিক হতে গিয়ে নিজের মর্যাদা নিজেই ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিজ্ঞাপনে নারীকে নগ্ন কিংবা অর্ধনগ্ন করে উপস্থাপণ থেকে বিরত থাকতে হবে। সংস্কৃতির নামে বিদেশ থেকে আমদানী করা অপসংস্কৃতির মূলোৎপাটন করতে হবে। নৈতিক শিক্ষা ও সৎচরিত্র গঠনের জন্য ব্যাপক ভিত্তিক কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, সামাজিক সংগঠন, ছাত্রসংগঠন, এনজিও সহ বিভিন্ন সংস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে আরও আন্তরিক ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।শিক্ষকদের সজাগ ও সচেতন করতে হবে।
বর্তমানে ইভ টিজিং প্রতিকারে অনেক ধরণের আইনের প্রয়োগ রয়েছে। যেমনঃ দণ্ডবিধি অনুযায়ী শালীনতার উদ্দেশ্যে কোনো মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি কাজ করলে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রমে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। আবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে যৌনঅঙ্গ বা অন্য কোনো অঙ্গ স্পর্শ করে এবং শ্লীলতাহানি করা হলে অনাধিক ১০ বছর কিন্তু ন্যুনতম তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। এছাড়া মোবাইল কোর্ট আইন অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে সংঘটিত বা উদঘাটিত হয়ে থাকলে তখনই অপরাধ আমলে নিয়ে শাস্তি দিতে পারবেন। উপরিউক্ত আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে ইভ টিজিং প্রতিরোধ করা সম্ভব।
নারী ভগ্নি, নারী বধূ তারা ভোগ্য পণ্য নয়, শ্রদ্ধা ও ভালবাসা পাওয়ার মতো আল্লাহ তায়ালার এক অমূল্য নিয়ামত। আমাদের সমাজে এ বিশ্বাসের লালন করতে পারলেই কেবল আমরা ইভটিজিং থেকে মুক্তি পেতে পারি
















