নির্বাচন কমিশনকে অসহায় ও অকার্যকর করা হয়েছে: জিএম কাদের

24

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশের সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা কুক্ষিগত করতে পারে না। কারণ সেসব দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা সরকারের ক্ষমতার আওতার বাইরে। এটা কোনো কঠিন কাজ নয়, শুধু সবার ইচ্ছা থাকলেই হয়। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িতদের যেন দলীয় নেতাকর্মী বানানো হচ্ছে। দলীয় গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে নির্বাচনের কেন্দ্র দখল করা হচ্ছে।’

Advertisement
spot_img

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে আমরা কুক্ষিগত করে ফেলেছি। নির্বাচন কমিশন ইচ্ছা করলেই ভালো নির্বাচন করতে পারবে না। কারণ নির্বাচন কমিশনের হাত-পা সরকারের কাছে বাঁধা। এই কমিশন কারচুপির অভিযোগে গাইবান্ধায় একটি উপনির্বাচন বাতিল করেছে। সেই নির্বাচনের তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলো অনেকেই কিন্তু কারোরই শাস্তি হলো না। অভিযুক্ত অনেকেই নাকি পুরস্কৃত হয়েছে। পরবর্তীতে সেই নির্বাচন আবারো হলো ভোট ডাকাতির মাধ্যমেই। নির্বাচন কমিশনকে অসহায় ও অকার্যকর করা হয়েছে।’

মঙ্গলবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের এসব কথা বলেন। এ সময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব-২ খন্দকার দেলোয়ার জালালী উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি সরকারই নির্বাচন ব্যবস্থা নিজের আয়ত্বে রাখতে চেষ্টা করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে যারাই ক্ষমতায় ছিল, তারাই আইন পরিবর্তন করে দলীয় লোকজন নিয়োগ দিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে। নির্বাচন এলেই বিরোধীরা সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে। কখনো সেই আন্দোলন সফল হয়েছে, কখনো হয়নি। এবার সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন সফল হবে কিনা- ভবিষ্যতে দেখা যাবে। ক্ষমতাসীনরা বিভিন্ন কারণে নির্বাচন ব্যবস্থা নিজস্ব আয়ত্বে এনে সরকার গঠন করতে চাইবে। যতদিন না পর্যন্ত সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের বলেন, এবার সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিদেশিদের একটি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সরকার যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করে। বিদেশিদের চাপ সরকারকে কিছুটা বেকায়দায় ফেলেছে। শেষ পর্যন্ত কী হয় সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচন পর্যন্ত।

তিনি বলেন, যে দলই ক্ষমতায় যায় তারাই ক্ষমতা ভোগ ও অপব্যবহার করে। জনগণের কাছে জবাবদিহিতার কথা তাদের মনে থাকে না। জনগণের কাছে জবাবদিহিতার প্রশ্ন এলেই তারা জনগণের রায় ছাড়াই ক্ষমতায় যেতে চায়। আমাদের রাজনীতিবিদরা কখনোই স্মরণ করে না যে জনগণই দেশের মালিক, জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে।

জিএম কাদের বলেন, জনগণের কাছে জবাবদিহিতা থাকলে দুর্নীতি, দুঃশাসন, বৈষম্য, অত্যাচার টাকা পাচার ও শোষণ থাকে না। জবাবদিহিতা থাকলে বরং উন্নয়ন স্থায়ীত্বশীল হয়, দেশ উন্নত হয় এবং দেশের মানুষ উন্নয়নের স্বাদ গ্রহণ করতে পারে। ক্ষমতায় গেলেই লাগামহীনভাবে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনগণকে তোয়াক্কা করা হয় না। ফলে নির্বাচন ব্যবস্থা হাতে না নিয়ে নির্বাচন করার সাহস থাকে না তাদের। এটা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির দুর্ভাগ্য। তাই সবাই মিলে নির্বাচন ব্যবস্থাকে সরকারের ক্ষমতার আওতার বাইরে নিতে হবে। এটা পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশই করে ফেলেছে। যারা ক্ষমতার বাইরে থাকেন তাদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে একটা জাগরণ তৈরি হয় কিন্তু ক্ষমতায় গেলেই আবার ভুলে যায়।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, নেতৃত্বের কারণে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নষ্ট হয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আদর্শ নয়। লোভ-লালসা ও ব্যবসায়িক দৃষ্টিতে রাজনীতি চলছে। ব্যবসা ও লুটতরাজের জন্য যেন রাজনীতি। এটা থেকে আমরা বের হতে পারছি না। আমাদের সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীরাও যেদিকে সুবিধা পায় সেদিকেই চলে। দেশ ও নীতি-নৈতিকতার কথা কেউ ভাবে না। এটা শুধু বর্তমান সরকারের আমলেই নয়, এর আগে যারা ছিল তারাও একই কাজ করেছে।

Advertisement
spot_img