
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা দশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস।
এই বিপুল সংখ্যক মানুষের চিকিৎসার জন্য একমাত্র ভরসাস্থল শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির অবস্থান।
কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং প্রসূতি মায়েদের নিরাপদে সন্তান প্রসব নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল উদ্বোধন করা হয় ১৩ কোটি ৮৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক চারতলা বিশিষ্ট ওপিডি ভবনসহ আরও ৪টি ভবন।
এমন অবকাঠামোগত সুবিধা থাকলেও হাসপাতালটিতে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা ছিল খুবই কম। কেননা প্রসব পূর্ববর্তী জটিলতা দেখা দিলে এখানে সিজারের কোন ব্যবস্থা ছিল না। ফলে প্রসূতি মায়েরা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে সন্তান জন্ম দিতে ভয় পেতেন।
বিষয়টি উপলব্ধি করে, স্বাভাবিক প্রসব কার্যক্রমের উদ্যোগ হাতে নেন ও ব্যাপক প্রচার চালান ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিকী লিংকন। তিনি ২০২১ সালের ১২ আগস্ট শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন। তার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে মানুষের আস্থা ফিরছে স্বাভাবিক প্রসবে।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি থেকে দুটি প্রি-অপারেটিভ বেড ও তিনটি পোস্ট অপারেটিভ বেড নিয়ে চালু করা হয় অস্ত্রোপচার ইউনিট। এ ইউনিটে কর্মরত রয়েছেন একজন করে শল্য চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিস্ট (অবেদনবিদ) ও শিশু বিশেষজ্ঞ।
১৯ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ৫ মাসে হাসপাতালটিতে নরমাল ডেলিভারি হয়েছে ১৯৮ জনের এবং সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ২৬ জন প্রসূতি মা। শনিবার (১৭ জুন) সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইতিমধ্যে, নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসবে উপজেলায় সাড়া ফেলেছে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ২টি অটোক্লাভ মেশিন, ১টি রুম হিটার, ২টি ড্রাই এয়ার ওভেন, ১টি সাকার মেশিন, ১টি কার্ডিয়াক মনিটর, ১টি নেবুলাইজার মেশিন, অক্সিজেন সিলিন্ডার, ডাইয়া থার্মি মেশিন ও এনেস্থেশিয়া মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জুন) সকালে কথা হয় এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারি হওয়া কয়েকজন মায়ের সাথে। তারা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারি করা নিয়ে মনের মধ্যে যে ভয় কাজ করত, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠকর্মী ও চিকিৎসকদের আন্তরিকতা মনে সাহস জুগিয়েছে।
ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিকী লিংকন বলেন, হাসপাতালটিতে নিরাপদ নরমাল ডেলিভারি করাতে দক্ষ ধাত্রীসহ আমাদের টিম সর্বদা প্রস্তুত। এখানে যত্ন সহকারে নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। শুধু তাই নয়, সন্তান প্রসবকালীন কোন জটিলতা দেখা দিলে এখানেই সিজারের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে, জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘবের সাথে সাথে হতদরিদ্র পরিবারের বাড়তি টাকা নষ্ট হয় না।
















