সরকার এমন ভয় পেয়েছে হাঁটু কাপতে শুরু করেছে-মির্জা ফখরুল

139

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই চট্টগ্রাম থেকে বিট্রিশ  বিরোধী আন্দোলন,স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। আজ তারুণ্যের সমাবেশ থেকে শুরু হল বর্তমান সরকারের পতনের আন্দোলন। তিনি বলেন তরুণরায় হচ্ছে এ দেশের আন্দোলনের চালিকা শক্তি, তরুণদেরকে জেগে উঠতে হবে। রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন চট্টগ্রামের বাচা চেয়ারম্যান সহ অনেক নেতাকে অপহরণ করা হয়েছে।মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির করা হচ্ছে নেতা কর্মীদের।  বিকেল ৩টায় কোরআন তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবেশ।

Advertisement
spot_img

মির্জা ফখরুল বলেন,আমেরিকার স্যাংশনে সরকারের হাঁটু কাপতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার নগরের কাজির দেউড়িতে ‘দেশ বাঁচাতে তারুণ্যের সমাবেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিভাগের বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘লজ্জায় আমরা মুখ দেখাতে পারি না। স্যাংশন দিয়েছে। আমেরিকা থেকে স্যাংশন। কেন? র‍্যাবকে কারা ব্যবহার করেছে। র‍্যাবকে কারা বলেছে, আমাদের ভাইদের তুলে নিয়ে গুম করতে। সেই সরকার।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘তাঁরা বলে আমরা ভয় পাই না। ভয় পাই না। এমন ভয় পেয়েছে হাঁটু কাপতে শুরু করেছে। কারণ তাঁদের সব কিছুতো বিদেশে। টাকা পাচার করেছে বিদেশে। এইবার যদি তুমি ভোটে আবার কারচুপি করতে যাও, এবার যদি দিনের ভোট রাতে করো। অথবা ওই কুত্তা মার্কা নির্বাচন করো, তাহলে তোমার রেহাই নাই। এইবার রেহাই নাই। আর রেহাই দেওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সমানে বলে—এ দেশে নাকি গণতন্ত্র আছে। এ দেশে নাকি সুস্থ ভোট হয়। অনেক হয়েছে, আপনি আমাদের অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছেন। আমাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। আমরা কোর্টে যেতে পারি না। কোর্টে গেলে, সরাসরি জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। মিথ্যা আর গায়েবি মামলা দিয়ে হাজির করা হয়। এরপর হাইকোর্টে যাই, আগাম জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে গেলে আবার জেলে পাঠানো হয়। সেটাই শেষ না, জামিন নিয়ে বের হলে আবার মামলা দেওয়া হয়।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ক্ষমতায় কীভাবে যাবা? ওই পুলিশ, ওই বিডিআর, অস্ত্র যন্ত্র দিয়ে? আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না। আমরা জনগণকে ক্ষমতায় আনতে চাই। আমরা ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।’

সাংবাদিকেরা লিখতে পারে না উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, সাংবাদিকেরা লিখলে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল আইনে মামলা করা হচ্ছে। রোজিনা ইসলামকে আবার মামলা দেওয়া হচ্ছে। ফটোগ্রাফার শহিদুল ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়ে মামলা দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। সাংবাদিক সাগর-রুনিকে বাড়ির মধ্যে নির্মমভাবে হত্যার এখনো বিচার হয়নি।

ফখরুল বলেন, ‘জনগণের টাকা দিয়ে নিজের উন্নয়ন করছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাঁরা ছাড়া আর কেউ লাভবান হচ্ছে না। আজকে আমাদের সকল অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আদালতে গিয়ে যে আমরা ন্যায়বিচার পাব, সেই ন্যায়বিচার থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। পার্লামেন্টকে শেষ করে দিয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে। এই যে মেয়র নির্বাচন হয়েছে। বরিশাল, খুলনায় নির্বাচন হয়েছে। গাজীপুরে জাহাঙ্গীরের মায়ের কাছে হেরে গেছে।’

বরিশালের পির সাহেব একজন আলেম মানুষ। তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে। শেষ পর্যন্ত তাঁকেও মেরে রক্তপাত ঘটিয়েছে বলে উল্লেখ করেন ফখরুল।

বেগম খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছে সন্দেহ করে ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে, মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দিয়ে আটক করে রেখেছে। শুধু আটক করে রাখেনি, তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তাঁকে কারাগারে অনেক দিন আটক করে রাখা হয়েছিল। বারবার বলেছি, তাঁকে মুক্তি দিন। আমরা জানি না, তাঁকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছে কিনা। কারণ তিনি এখন যে অসুস্থ হয়েছেন, এতটা অসুস্থ হওয়ার কথা নয়। তাঁকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংগ্রাম করতে হবে, লড়াই করতে হবে। যারা জোর করে প্রতারণা করে, জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছে। তাঁরা প্রশাসনকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে আছে। জনগণের ওপর স্টিম রোলার চালাচ্ছে। এই সরকার প্রধান বলেছিলেন, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। কিন্তু কই? যুবক ভাইয়েরা বাজারে যেতে পারে না। লবণের দাম বেড়েছে, পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। সবকিছুর দাম বেড়েছে। তাঁরা বলে, বাংলাদেশ নাকি ভালো আছে। হুম, তাঁরা ভালো আছে। তাঁরা টাকা পয়সা বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। এমনকি তাঁদের সন্তানদেরও বিদেশে পাঠিয়েছে।

সমাবেশে প্রধার বক্তা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নির্ভরশীলতা জনগণের ওপর নেই, তাদের নির্ভরশীলতা পুলিশ, র‌্যাব ও আনসারের একাংশের ওপর। এই একাংশ এই অবৈধ অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য বেআইনি কাজ করছে, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ও সংবিধান লঙ্ঘন করছে। এই একাংশের কাছে অনুরোধ এই পথ থেকে সরে আসেন, দেশের জনগণ জেগেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জনগণের চলমান আন্দোলনের সাথে শামিল হোন। আপনারা যারা পুলিশ-র‍্যাব-আনসারে আছেন, সরকারি কর্মকর্তা আছেন আপনারা আপনাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বিঘ্নে পালন করতে পারবেন। আপনারা জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েন না, জনগণের পাশে থাকেন।

এই সরকার ভোট চোর থেকে শেয়ার বাজার চোর’ বলে মন্তব্য করেন খসরু। চলমান আন্দোলনকে জনগণের আন্দোলন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা এই আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করবেন তাদের খবর আছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আগামী দিনগুলো সতর্কতার সাথে চলতে হবে। এই সরকারের সাথে জনগণ নেই। তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা চাইবে সহিংসতা করতে। তারা চাইবে আমাদের সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে।

এ সময় তিনি বলেন, আমরা জয়ের শেষ ভাগ এসে পৌঁছেছি। সহিংসতা কে করে, যার সাথে জনগণের সমর্থন নাই তারা। কোটি কোটি জনতা বিএনপির পক্ষে আছে, আমরা কেন সহিংসতা করব? সরকারকে বলব ওই পথে যাইয়েন না। সুবোধবালকের মতো গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, আপনাদের জন্য ভালো হবে, দেশের জন্য ভালো হবে।

বিশেষ অতিথি র বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান. মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন. বরকত উল্লাহ বুলু. মোহাম্মদ শাহজাহান.বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার. প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন এ্যানি ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবেরহমান শামিম. চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা: শাহাদাত হোসেন সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর. চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ন. কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ.ব্যারিষ্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন. যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন. স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, ছাত্র দলের সভাপতি কাজী রুওনুকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মোহাম্মদ জুয়েল কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি’,কেন্দ্রীয় যুবদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ,
চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচএম রাশেদ খান,মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু,মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক মোঃ সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন ।
সকাল থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা এবং খাগড়াছড়ি রাঙামাটি, বান্দরবান নোয়াখালী, কুমিল্লা ফেনীসহ পুরো বিভাগ থেকে লোকজন সমাবেশস্থল কাজীর দেউড়ি মোড় পূর্ণ হয়ে লাভলেইন,আসকার দীঘির পাড়, ওয়াসার মোড় পর্যন্ত।

Advertisement
spot_img