মিরপুরে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ 

95

চলতি বছরের শুরুর দিকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সফরে গিয়ে হোয়াইটওয়াশের শিকার হয়েছিল বাংলাদেশ দল। এবার ঘরের মাঠে সেই হারের প্রতিশোধ নিতে নেমে প্রথম ম্যাচেই ব্যাটে-বলে দারুণ পারফর্ম করে ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন টাইগাররা। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক বাংলাদেশ।

রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১১০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। জবাবে ২৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের সহজ জয় পায় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন।

বাংলাদেশের ব্যাটিং: ধাক্কা সামলান ইমন-হৃদয়

Advertisement
spot_img

১১১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারে ৪ বলে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর তিন নম্বরে নামা লিটন দাসও ১ রান করে বিদায় নেন। এতে মাত্র ৭ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে টাইগাররা।

তবে এরপর ব্যাট হাতে হাল ধরেন পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয়। তাদের জুটিতে পাওয়ার প্লেতে ৩৮ রান তোলে বাংলাদেশ। হৃদয় যদিও ফিফটি ছুঁতে পারেননি, ৩৭ বলে ৩৬ রান করে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। তখন বাংলাদেশের স্কোর ৮০/৩।

অন্যদিকে ইমন তুলে নেন তার ঝলমলে ফিফটি—৩৪ বলে। তাকে সঙ্গ দেন জাকের আলী। শেষ পর্যন্ত জাকেরের ১০ বলে ১৫ রান এবং ইমনের ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৬ রানে ভর করে বাংলাদেশ ৭ উইকেট ও ২৭ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে।

পাকিস্তানের হয়ে সালমান মির্জা ২টি ও আব্বাস আফ্রিদি ১টি উইকেট নেন।

পাকিস্তানের ইনিংস: তাসকিনদের আগুন বোলিংয়ে ধস

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় বলেই ক্যাচ তুলে দেন ফখর জামান। তবে সহজ সুযোগটি মিস করেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে অবশ্য নিজেরই বল হাতে সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন তিনি—সাইম আইয়ুবকে ক্যাচ আউট করেন তাসকিন।

তৃতীয় ওভারে শেখ মাহেদীর বলে আউট হন ৩ বলে ৪ রান করা হারিস। এরপর পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে এসে তানজিম সাকিব ফেরান পাকিস্তান অধিনায়ক সালমানকে, যিনি করেন মাত্র ৩ রান। এরপর মোস্তাফিজুর রহমানের বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন হাসান নাওয়াজ।

পাওয়ার প্লেতে পাকিস্তান স্কোরবোর্ডে তোলে মাত্র ৪১ রান, এরই মধ্যে হারায় ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

অষ্টম ওভারে মোহাম্মদ নাওয়াজ রানআউট হন ৫ বলে ৩ রানে। এরপর ফখর জামান দ্বিতীয়বারের মতো জীবন পেলে তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ১২তম ওভারে রান নেওয়ার সময় খুশদিল শাহের ‘না’ সিদ্ধান্তে পিচের মাঝখানে থেমে যান, ফলে সরাসরি থ্রোতে রান আউট হন তিনি (৪৪)।

খুশদিল পরে আব্বাস আফ্রিদিকে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও সফল হননি। ২৩ বলে ১৭ রানেই থেমে যায় তার ইনিংস।

১৯তম ওভারে তাসকিনের দুর্দান্ত স্পেলে প্রথম বলে ফাহিম আশরাফ (৫) ক্যাচ আউট হন, পরের বলে রানআউট হন সালমান মির্জা এবং তৃতীয় বলে আব্বাস আফ্রিদিকে ক্যাচ দেন তিনি। এভাবে ১১০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।

Advertisement
spot_img