আব্দুল আল নোমান ছিলেন একজন পরিশীলিত, ত্যাগী ও আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ-এরশাদ উল্লাহ

117

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন,প্রয়াত আব্দুল আল নোমান ছিলেন একজন পরিশীলিত, ত্যাগী ও আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ। তাঁর সমগ্র রাজনৈতিক জীবন ছিল আদর্শ, সততা ও সাহসিকতার প্রতিচ্ছবি। তিনি সবসময় নীতিনিষ্ঠ রাজনীতির পক্ষে থেকেছেন এবং গণমানুষের অধিকারের প্রশ্নে কখনো আপোষ করেননি।

Advertisement
spot_img

তাঁর মতো রাজনীতিবিদের প্রয়াণ শুধু দলের জন্য নয়, দেশের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবকের মতো। তরুণ নেতাকর্মীদের মধ্যে তিনি রাজনীতির শুদ্ধ ধারা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। রাজপথে তাঁর দৃপ্ত পদচারণা এবং সংগঠনের প্রতি তাঁর নিবেদন আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস।
বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আল নোমান এর স্মরণ সভা এবং ঐতিহাসিক “জুলাই বিপ্লব” কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির উদ্যোগে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় নগরীর নসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক জনাব আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। সভা পরিচালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।

সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, আগামী ১৩ জুলাই ২০২৫, রবিবার, এলজিডি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগ, মহানগর, সাবেক থানা ও নবগঠিত ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত থাকবেন।
এরশাদ উল্লাহ আরো বলেন,আজকের এই প্রস্তুতি সভা শুধু স্মরণসভা আয়োজনের কর্মপরিকল্পনা নয়, বরং তাঁর কর্ম ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি অঙ্গীকার।

পাশাপাশি আমরা স্মরণ করছি ঐতিহাসিক জুলাই মাসের ঘটনাপুঞ্জ, যেখানে জনগণের আত্মবিশ্বাস ও প্রতিবাদের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। এই জুলাই আন্দোলন আমাদের দেখিয়েছে—দমন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণ কখনো মাথা নত করে না।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—আব্দুল আল নোমানের স্মৃতির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে তখনই, যখন আমরা তাঁর মতো সাহসী, আদর্শনিষ্ঠ ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতি চর্চা করব এবং আমাদের সংগঠনকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী শক্তিতে পরিণত করতে সচেষ্ট হবো।

মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন,আব্দুল আল নোমান সাহেব ছিলেন আমাদের দলের অন্যতম স্তম্ভ। তিনি শুধু একজন নেতা ছিলেন না, ছিলেন এক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত তাঁর নিরলস অবদান এবং সংগঠনের প্রতি ভালোবাসা ছিল নিঃস্বার্থ ও অকৃত্রিম।

এই স্মরণসভা তাঁর প্রতি আমাদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও দায়বদ্ধতার প্রকাশ। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম তাঁকে জানুক, তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা মূল্যবোধকে ধারণ করুক এবং সেই চেতনায় রাজনীতিতে প্রবেশ করুক।

একইসাথে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের বার্ষিকী আমাদের সামনে নতুন উদ্দীপনা ও শক্তি নিয়ে এসেছে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আমাদের এখন প্রয়োজন সাংগঠনিক শক্তিকে সুসংহত করে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখা।

দলের প্রতি, জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার থেকেই আমরা এই কর্মসূচিগুলো পালন করছি এবং এগিয়ে নিতে চাই।

আমি নগর বিএনপির প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড এবং অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এবং আহ্বান জানাই—আমরা যেন ঐক্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে স্মরণসভা ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখি।

প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এম এ আজিজ, এডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, শিহাব উদ্দিন মোবিন এবং মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য ইকবাল চৌধুরী, এম এ হান্নান, এস এম আবুল ফয়েজ, আবুল হাশেম, ইসকান্দর মির্জা, মুজিবুল হক, মোহাম্মদ মহসিন, মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, কামরুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন ডিপটি, মো. জাফর আহম্মদ, এ.কে. খান, মাহবুব রানা, এম. এ সবুর, আবু মুসা, হানিফ সওদাগর এবং মোহাম্মদ আজম।

তরুণ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম, সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জমির উদ্দিন নাহিদ, তাঁতীদলের আহ্বায়ক হাফেজ সেলিম এবং সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মুরাদ সহ ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, তাঁতী দল এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভায় নেতৃবৃন্দ প্রয়াত আব্দুল আল নোমান সাহেবের রাজনৈতিক অবদান ও সংগ্রামী জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “তিনি ছিলেন একজন আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক, ত্যাগী ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ। তাঁর কর্ম ও আদর্শ বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

আগামী স্মরণ সভা ও জুলাই বিপ্লবের বার্ষিক কর্মসূচিকে সর্বাত্মকভাবে সফল করতে সভায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় ।

Advertisement
spot_img