
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় হওয়ায় চট্টগ্রামে বৃষ্টি বেড়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় পাহাড় ধসের শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির হিসেবে চট্টগ্রাম নগরীর ২৬টি ছোট বড় পাহাড়ে বর্তমানে ৬ হাজার ৫৫৮টি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে নগরীর কাট্টলীতে। আকবরশাহ থানাধীন ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিলসংলগ্ন পাহাড়গুলো এ সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত। এখানেই বেশি পরিবারের বসবাস। কিন্তু পাহাড়ধসের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই পরিবারগুলো ওখানে বসবাস করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে।গত কয়েক দিনের বৃষ্টি জনজীবনে প্রভাব ফেলেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে চট্টগ্রামসহ দেশের চারটি বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকালে ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪-৮৮ মিমি/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (>৮৮ মিমি/২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে।
পাহাড়ধসের আশঙ্কায় নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে। পাহাড়ের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের সতর্ক করতে ওইসব এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে। নিরাপদে সরে যাওয়ার পরামর্শও দেয়া হয়েছে। তবে কেউ এখনও সরেননি।
চট্টগ্রামের খুলশী, পাহাড়তলি, ফয়েজ লেক, আকবর শাহ এলাকার ঝিল-১, ২, ৩ নং এলাকা, জিয়া নগর, মধ্যম নগর, মুজিব নগর, শান্তিনগর, কৈবল্যধাম বিশ্বকলোনী এলাকা, ফিরোজ শাহ এলাকা, মতিঝর্ণা, বাটালি হিল, এ কে খান পাহাড়, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিলস এলাকা, রউফাবাদ, ফরেস্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউট এলাকা, বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সিডিএ লিংক রোড এলাকার পাহাড়গুলোতে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ে এখন অবৈধ বসতির সংখ্যা ৬ হাজার ১৭৫ পরিবার। মোট ঝুঁকিপূর্ণ বসতিসম্পন্ন পাহাড় আছে ২৬টি। চট্টগ্রাম নগরী এবং আশপাশের এলাকায় পাহাড়ধসে প্রতিবছরই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
গত ১৬ বছরে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে তিনশ’রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০০৭ সালের ১১ জুন পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম নগরীতে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ ঘটনায় পাহাড়ে অবৈধ বসতি, ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস এবং প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে প্রায় প্রতিবছরই পাহাড়ধসে নগরী ও জেলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ২০২২ সালে নগরীর আকবর শাহ এলাকায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের দু’জনের মৃত্যু হয়।
















