
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি মাসব্যাপী নানা আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ৩ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় চত্বরে ড্যাবের উদ্যোগে ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহযোগিতায় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও ব্লাড গ্রুপিং কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক জনাব এরশাদ উল্লাহ বলেন,
“২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই দেশের মানুষ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল—ভয়, হুমকি আর দমন-পীড়ন দিয়ে আর জনগণের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। সেই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ছিল সাধারণ মানুষের আবেগ, ক্ষোভ, আশা আর ন্যায়ের পক্ষে জেগে ওঠা এক বিশাল প্রতিরোধ।
কিন্তু সেই আন্দোলনের জবাবে রাষ্ট্র যা করেছে, তা ছিল এক নির্মম ও পরিকল্পিত গণহত্যা। নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়েছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ-তরুণী, শিক্ষক, শ্রমিক—কাউকে রেহাই দেওয়া হয়নি। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত গ্রেপ্তার, নির্যাতন আর নিপীড়নের ভয়াল ছায়া নেমে এসেছিল। এই দেশের ইতিহাসে এটি একটি কালো অধ্যায়, যা কখনো মুছে যাবে না।
তিনি বলেন, আজকের এই রক্তদান কর্মসূচি সেই রক্তাক্ত জুলাইয়ের স্মরণে একটি বাস্তব বার্তা বহন করে। আমরা রক্ত দিচ্ছি, জীবনের জন্য, মানবতার জন্য—কিন্তু একইসাথে আমরা স্মরণ করছি সেই সব সাহসী তরুণদের, যারা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার আর ন্যায়ের জন্য বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিল।
এই রক্তদান একটি মানবিক কাজ, কিন্তু এর চেয়েও বড় কথা হলো, এটি এক প্রতীক—একটি ঘুম ভাঙানোর বার্তা। ইতিহাস বলে, এই দেশের ছাত্রসমাজ আর মানুষ বারবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির আগামী দিনের প্রতিটি কর্মসূচি হবে সেই চেতনার ধারাবাহিকতা। আমরা কোনো প্রতিশোধের রাজনীতি করি না, কিন্তু আমরা চাই জবাবদিহি, চাই ন্যায়বিচার। যারা রক্তের দামে এই দেশে গণতন্ত্র চেয়েছিল, তাদের আত্মত্যাগ যেন ব্যর্থ না হয়—সেটাই আমাদের অঙ্গীকার।
আজকে ড্যাব চট্টগ্রাম যে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে, সেটিকে আমরা শুধু চিকিৎসা সহায়তা নয়, বরং একটি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে দেখি। এই রক্ত শুধু একজন রোগীকে বাঁচাবে না, এটি বাঁচিয়ে রাখবে ইতিহাস, চেতনা আর প্রতিবাদের ধারা।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড্যাব চট্টগ্রাম সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসীম উদ্দিন,সঞ্চালনা করেন ড্যাব সাধারণ সম্পাদক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী।
প্রধান বক্তা হিসেবে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, “আজকের এই রক্তদান কর্মসূচি কোনো সামান্য কর্মসূচি নয়—এটি একটি প্রতীক, একটি শক্তিশালী সংকেত যে, আমরা রক্ত দিতেও প্রস্তুত, কিন্তু স্বৈরাচারী শাসনের কাছে মাথা নত করব না। ড্যাব যে এই সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে, তা আমাদের চলমান গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে আরও বেগবান করবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির আন্দোলন হলো মানুষের ভোটাধিকার, স্বাধীনতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য এক অবিচ্ছিন্ন সংগ্রাম, যা রক্তস্রোতের বিনিময়ে অর্জিত। আজ আমরা স্বেচ্ছায় রক্ত দিচ্ছি—সেই রক্তের এক ছোট্ট অংশ, যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় অতীতের ত্যাগ ও সংগ্রামকে। রক্তদান শুধু জীবন রক্ষা নয়, এটি আমাদের সংগ্রামের চেতনা বাঁচিয়ে রাখার প্রতীক।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর,নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, এড. আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহামেদুল আলম রাসেল, শিহাব উদ্দিন মোবিন, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু।
ড্যাব নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড্যাব জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজউদ্দিন আহাম্মেদ,ড্যাব মহানগর সভাপতি অধ্যাপক আব্বাস উদ্দিন,মহানগর সাধারণ সম্পাদক ডা. ইফতেখায়রুল ইসলাম,সহ সভাপতি নুরুল করিম চৌধুরী,সহ-সভাপতি ডা. মেজবাহ উদ্দিন,ডা. হোসনেয়ারা বেগম।
মহানগর বিএনপির সদস্যবৃন্দ ইকবাল চৌধুরী, এস. এম. ফয়েজ, খোরশেদ আলম, কামরুল ইসলাম, মশিউর আলম স্বপন, মোশারফ হোসেন ডিপটি, মোহাম্মদ জাফর আহমেদ, এ. কে. খান, মাহবুব রানা, এম. এ. সবুর, মোহাম্মদ আবু মুসা, মোহাম্মদ ইউছুপ।
ড্যাব নেতৃবৃন্দ তানভির হাবিব তান্না, ডা. মেহেদী হাসান, ডা. জুনায়েদ রায়হান তাঁতী দল সভাপতি সেলিম হাফেজ, তাঁতী দল সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুরাদ,ছাত্রদল সভাপতি সাইফুল আলমসহ প্রমুখ।
















