দেশের সব বিমানবন্দরের কাজ পেয়েছেন আমিরাতের রাষ্ট্রদূত

100

বাংলাদেশে বিমানবন্দরগুলো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করতে নতুন যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই নতুন যাত্রী তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য চুক্তিবদ্ধ একটি কোম্পানির ৩৪ শতাংশ মালিকানা রয়েছে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলি আল হামুদির।

Advertisement
spot_img

মিডল ইস্ট আই গতকাল শনিবার এ বিষয়ে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, নতুন যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য সংযুক্ত আবর আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের একটি অংশ আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সহ-মালিকানাধীন একটি কোম্পানির সঙ্গে সাব-কন্ট্রাক্ট করেছে।

এ বিষয়ে একটি নথির কথা উল্লেখ করেছে মিডল ইস্ট আই। প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়, নতুন এই যাত্রী তথ্য ব্যবস্থাপনা সেবা বাংলাদেশ সরকারের জন্য অর্থের বিনিময়ে মূল্য প্রদান করে কিনা। অথবা নতুন ব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীরা অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন কিনা।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলি আল হামুদির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত সম্পর্কেও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে মিডল ইস্ট আই। বাংলাদেশে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের বিমান চলাচল খাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই চুক্তি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। যা ‘স্বার্থের সংঘাত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি স্পষ্ট ঘটনা’ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

ইফতেখারুজ্জামান মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন, ‘একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে, সরকারের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া, একজন রাষ্ট্রদূত কোনো ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারবেন না ।’

মিডল ইস্ট আই বলছে, এই ধরনের অনুমোদন রাষ্ট্রদূত পেয়েছেন কিনা? এবং তার ব্যবসায় বিনিয়োগের মূলধনের উৎস কী?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- একজন চাকরিরত সরকারি কর্মকর্তার সাথে সরকারের ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকতে পারে না। একজন রাষ্ট্রদূতের কারণে সম্ভাব্য সুনামের ক্ষতিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

মিডল ইস্ট আই আব্দুল্লাহ আলি আল হামুদি, ঢাকায় অবস্থিত আমিরাতের দূতাবাস, আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার এবং এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত কোম্পানি ও ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করেছে। তবে লেখার সময় কেউই সাড়া দেয়নি বলে দাবি করেছে মিডল ইস্ট আই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তি সম্পর্কে অবগত বাংলাদেশি কর্মকর্তারাও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কারণ কথা বললে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে তাদের আশঙ্কা।

বাংলাদেশি বিমানবন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য নতুন যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যার জন্য অগ্রিম যাত্রী তথ্য (এপিআই) এবং যাত্রী নাম রেকর্ড (পিএনআর) তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে, বাংলাদেশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার বাংলাদেশে এপিআই এবং পিএনআর ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য যৌথভাবে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।

Advertisement
spot_img