এনসিপির সমন্বয়ক কমিটিতে পদ পেলেন ছাত্রলীগ নেতা

91

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র কুমারখালী উপজেলা শাখার নবগঠিত সমন্বয় কমিটিতে যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান আলী। তিনি কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলোঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা এবং কুমারখালী পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

Advertisement
spot_img

গত শনিবার (২১ জুন) এনসিপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহর স্বাক্ষরে ১২ সদস্যের একটি উপজেলা সমন্বয় কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। সেখানে আসাদুজ্জামান আলীর নাম যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।

আসাদুজ্জামান আলীর বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে। চাঁদাবাজি, ঘুষ গ্রহণ, মামলা বাণিজ্য, আশ্রয়-প্রশ্রয় বাণিজ্যের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি তার পিতা আবদুর সামাদ পাখিকেও এসব কর্মকাণ্ডে সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে স্থানীয়রা।

এইসব অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ও রাজনৈতিক কর্মীরা একাধিকবার মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন। এছাড়া ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ থেকে তাকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও জনসাধারণের অনাস্থার কারণে ৩ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতি দেয়া হয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষদের একাংশ দাবি করেন, আসাদুজ্জামান আলী একজন ‘সুবিধাবাদী’ রাজনীতিক। কখনও ছাত্রলীগ, কখনও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, আবার এখন এনসিপি এই পরিবর্তনগুলো তার ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির কৌশল বলেই মনে করছেন তারা।

একজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা বলেন, ‘আলী বরাবরই ক্ষমতার সঙ্গে থাকার চেষ্টা করে। এখন এনসিপি’র ব্যানারে আবার ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। এমন একজন বহুরূপী ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা দেয়া হতাশাজনক।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান বলেন, ‘আসাদুজ্জামান আলীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকায় আমরা তাকে অব্যাহতি দিয়েছি। এখন এনসিপির মতো একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে তার পুনর্প্রবেশ আমাদের জন্য হতাশাজনক বার্তা বহন করে।’

অভিযোগের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসাদুজ্জামান আলী বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগ থেকে সরে এসে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলাম। জীবনবাজি রেখে আন্দোলন করেছি। আমার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে আমাকে হেয় করছে। কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে আমি অপকর্মে যুক্ত, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে কুষ্টিয়া ত্যাগ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এনসিপির একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। এ পদে আসার আগে আমি ছাত্রলীগ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি। যারা অভিযোগ করছেন, তারা আন্দোলন-সংগ্রামের সময় রাজপথে ছিলেন না।’

Advertisement
spot_img