
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী, মেয়র ও রাষ্ট্রদূত মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেছেন, বিগত ষোল বছর বিএনপি যে নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছে কিন্তু সেই বিএনপি দেশের জনগণকে ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। অথচ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তারেক জিয়া ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে আমরা সকল আন্দোলন সফল হয়েছি। এখন আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ন্যায়বিচার সবার জন্য সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। যেখানে প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সম্মান করবে এবং সমন্বিতভাবে এগিয়ে যাবে। একটি পরিবেশবান্ধব দেশ, যেখানে প্রকৃতির প্রতি যতœবান হওয়া, সবুজায়নকে উৎসাহিত করা হবে এবং প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাওয়া হবে। যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থান সবার নাগালে থাকবে। তরুণরা স্বপ্ন দেখবে, নতুন উদ্যোগ নিতে পারবে এবং তাদের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে জাতিকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবে।
স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া রহমানের ৪৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে পাহাড়তলী ও হালিশহর থানা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে এবং দেশ রক্ষা তারেক মঞ্চ’র ব্যবস্থাপনায় আজ শনিবার (১৪ জুন) সকালে হালিশহর জেপি কনভেনশন হলে খতমে কুরআন, ফ্রি চিকিৎসা ও ঔষধ বিতরণ এবং দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি’র সভাপতিত্বে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ও ঔষধ বিতরণ উদ্বোধন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য সংগ্রাম করেছি। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে বাংলাদেশে একটি অবাধ স্বচ্ছ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ইনশাআল্লাহ হবে। জনগণের ভালোবাসার ম্যানডেট নিয়ে অবশ্যই বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। জনগণের ভোটে বিএনপি জয়ী হলে দেশের সাধারণ জনগণ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে। বাংলাদেশের মানুষ যাতে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সেই জন্যই আমাদের সংগ্রাম, আমাদের লড়াই। গত ১৬ বছরে ধারাবাহিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন আমার প্রিয় নেতা তারেক রহমান।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ উল্লাহ বলেন, আ’লীগ সরকার দেশের মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করেছে। আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচন কমিশন ছিল কিন্তু মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না। বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনও অন্যায় করেননি শুধু অন্যায় আচরণের সাথে ভিন্ন মত পোষণ করেছিল। সরকারি দলের সাথে ভিন্ন মত পোষণ করার কারণে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মামলার শিকার হয়েছেন হামলার শিকার হয়েছেন। এই সময় দলীয় নেতা-কর্মীদের হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে বা ক্ষমতায় আসলে চাঁদাবাজি করবেন, দখলদারি করবেন, লুট পাট করবেন, অন্যায় করবেন, তাদের বিএনপি ও আগামীর বাংলাদেশে স্থান নেই।
মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহনেওয়াজ সিরাজ মামুন ও নগর যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি ফজলুল হক সুমনের সঞ্চালনায় এতে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আর ইউ চৌধুরী শাহিন, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ও নগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া, জাফর আহমেদ, মাহবুব রানা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু, মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক মুহাম্মদ সাইফুল আলম, নগর স্বেচ্ছাসেবক সদস্য সচিব ইন্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রফেসর ডা. ইব্রাহিম চৌধুরী, প্রফেসর ডা. আব্বাস উদ্দিন, ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, ডা. ইফতেখারুল ইসলাম লিটন, ডা. আশরাফুল করিম, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান , ডা. ইফতেখারুল ইসলাম লিটন, ডা. আশরাফুল করিম, ডা. মীর ওয়াজেদ আলী, ডা. রিফাত কামাল, ডা. মাজেদ সুলতান, ডা. মোনায়েম ফরহাদ, ডা. ইফতেখার মো. আদনান, ডা তানভিরুল ইসলাম তান্না, ডা গিয়ায় উদ্দিন নয়ন, ডা. মতিউরসহ মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও মহিলা দলের প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া মাহফিলে শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রয়াত নেতাকর্মীদের রুহের মাগফিরাত কামনা ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
















