চসিকের ৪ হাজার কর্মী ও মেয়রের সহায়তায় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ

108

পবিত্র ঈদ উল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরে কোরবানির পশু জবাইয়ের পর সৃষ্ট বর্জ্য দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে অপসারণে নিরলসভাবে কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। শনিবার (৭ জুন) সকাল থেকেই নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে কোরবানি শুরু হলে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ৪ হাজারেরও বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাঠে নেমে পড়েন।

নগরের বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, কাজীর দেউড়ি, আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, কোরবানির পরপরই মানুষজন নিজ উদ্যোগেও বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে রাখছেন। সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা সেই বর্জ্য দ্রুত ট্রাকে তুলে নিচ্ছেন। অনেক এলাকায় ব্লিচিং পাউডার ছড়াতেও দেখা গেছে, যা দুর্গন্ধ ও জীবাণু ছড়ানো রোধে সহায়ক।

Advertisement
spot_img

নগরের বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, কাজীর দেউড়ি, আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির কাজ শেষ হতেই নগরবাসী নিজেরাই বর্জ্য একত্র করে নির্ধারিত স্থানে রাখছেন। চসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেই বর্জ্য দ্রুত ট্রাকে তুলে নিচ্ছেন, যাতে বর্জ্য পড়ে থেকে পরিবেশ দূষণ না ঘটে। অনেক এলাকায় ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে, যা দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, কোরবানির দিন বিকেল ৫টার মধ্যেই নগরের বর্জ্য অপসারণের মূল কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪ হাজারেরও বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। বর্জ্য পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে ১৮০টিরও বেশি ট্রলি, ড্রাম ট্রাক, ডাম্পার ও পে-লোডারসহ বিভিন্ন আধুনিক যানবাহন। পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি করছেন। মেয়র নিজেও নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বর্জ্য অপসারণের কাজ শেষ করা যায়।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার আই ইউ এ চৌধুরী জানান, আমরা সকাল থেকেই পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছি। আমাদের সকল জনবল ও যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নগরবাসীর সহযোগিতায় আমরা দ্রুততম সময়ে নগরী পরিষ্কার করতে বদ্ধপরিকর। আশা করছি, সন্ধ্যা নাগাদ বড় অংশের বর্জ্য অপসারণ হয়ে যাবে এবং রাতে বাকি কাজ শেষ করা হবে।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার আই ইউ এ চৌধুরী জানান, ঈদের দিন সকাল থেকেই সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সব জনবল ও যানবাহন পূর্ব থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, যাতে বর্জ্য অপসারণে কোনো বিলম্ব না হয়।

তিনি বলেন, ‘নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতার ফলে আমরা দ্রুততম সময়ে নগরী পরিষ্কার করতে সক্ষম হচ্ছি। আশা করছি, সন্ধ্যার মধ্যেই অধিকাংশ এলাকায় বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হবে এবং রাতের মধ্যে বাকি কাজও শেষ করা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু কিছু এলাকায় যত্রতত্র কোরবানি দেওয়ার ফলে বর্জ্য সংগ্রহে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করার আহ্বান জানালেও অনেকেই তা মানছেন না। ফলে কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে বর্জ্য জমে থাকতে দেখা গেছে। তবে চসিক কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে এসব স্থান থেকেও দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করছেন।’

Advertisement
spot_img