
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ঐতিহাসিক মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় ও কোরবানি সম্পন্ন করে ঈদ উদ্যাপন করেছেন। শুক্রবার (৬ জুন) সকালে দরবার শরীফের খানকাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত, যেখানে ইমামতি করেন দরবারের বর্তমান জানশীন হজরত ইমামুল আরেফীন ড. মাওলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান (ক.)।
দুই শত বছরের অধিক সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে এই দরবারের অনুসারীরা হানাফী মাযহাবের অনুসরণে হজ দিবসের পরদিন ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।
দরবার সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখীল, এওচিয়া, গাটিয়াডাঙ্গা, আলীনগর, মাদার্শা, খাগরিয়া, মৈশামুড়া, পুরানগড়, বাজালিয়া, মনেয়াবাদ, চরতি, সুঁইপুরা, হালুয়াঘোনা, চন্দনাইশের কাঞ্চননগর, হারালা, বাইনজুরি, চরবরমা, কেশুয়া, কানাই মাদারি, সাতবাড়িয়া, বরকল, দোহাজারী, জামিরজুরি, বাঁশখালীর কালিপুর, চাম্বল, ডোংরা, শেখেরখীল, ছনুয়া, পুইছড়ি এবং আনোয়ারার বরুমছড়া, তৈলারদ্বীপ, বারখাইন, খাসকামা, কাটাখালী, রায়পুর, গুজরা, লোহাগাড়ার পুঁটিবিলা, কলাউজান, চুনতী ও সীতাকুণ্ডের মাহমুদাবাদ, বারিয়াঢালা, বাঁশবাড়িয়া, সলিমপুর, মহালংকা, মিরশরাই, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, হাতিয়া ও সন্দ্বীপসহ চট্টগ্রাম বিভাগের শতাধিক গ্রামে ঈদ উদ্যাপিত হয়।
এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের বাইরেও ফেনী, রাঙামাটি, কুমিল্লা, ঢাকা, মুহাম্মদপুর, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, মনোহরদী, মঠখোলা, বেলাব, আব্দুল্লাহনগর, কাপাসিয়া, চাঁদপুরের মতলব, সিলেট, হবিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা প্রভৃতি জেলায় মির্জাখীল দরবার শরীফের অগণিত অনুসারীরা একযোগে ঈদুল আযহা উদ্যাপন করেন।
এ বিষয়ে দরবার শরীফের মেজ শাহজাদা মোহাম্মদ মছউদুর রহমান বলেন, ‘আমরা হানাফী মাযহাব অনুসরণ করি এবং বিগত দুই শতাধিক বছর ধরে পবিত্র হজ দিবসের পরদিনই ঈদুল আযহা উদ্যাপন করে আসছি। বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে চাঁদের অবস্থান এবং হজ পালনের তথ্য সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে আমরা ঈদের দিন নির্ধারণ করি। এবারও পবিত্র আরাফাতের মসজিদে নামিরা থেকে শায়খ ড. সালেহ বিন হুমাইদ প্রদত্ত হজের খুতবা সরাসরি দেখে-শুনে দেশ-বিদেশে আমাদের সিলসিলার অনুসারীরা ঈদের নামাজ আদায় ও কোরবানি সম্পন্ন করেন।’
















