বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন

232

দীর্ঘ সাত বছর পর মুক্ত পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এবারের ঈদে তিনি রাজধানীর গুলশানের ফিরোজা ভবনে আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবেন।

Advertisement
spot_img

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতা ও নানা আইনি জটিলতার কারণে বিগত কয়েক বছর খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময় হাসপাতালে কিংবা নজরদারির মধ্যে ঈদ উদযাপন করেছেন। তবে এবার তিনি গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’-তেই স্বাভাবিক পরিবেশে ঈদ পালন করবেন।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো ঈদই মুক্ত পরিবেশে উদযাপন করতে পারেননি খালেদা জিয়া। তবে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো তিনি রাজনৈতিকভাবে কিছুটা স্বস্তির মধ্যে ঈদ পালন করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার রোজার ঈদ তিনি লন্ডনে ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে উদযাপন করেছেন।

সম্প্রতি চিকিৎসা শেষ করে বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন খালেদা জিয়া। তবে শর্মিলা রহমান ইতোমধ্যে তাদের দুই মেয়ে- জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানের কাছে ফিরে গেছেন।

অন্যদিকে, ডা. জুবাইদা রহমান আজ বৃহস্পতিবার (০৫ জুন) সকালে ঢাকা থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তার স্বামী তারেক রহমান ও তাদের একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান অপেক্ষা করছেন। তারা এবারের ঈদ উদযাপন করবেন যুক্তরাজ্যে।

ঈদের দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতারা গুলশানের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে নেতারা ভার্চুয়ালি শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এ ছাড়া ঈদের দিন সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া করবেন দলের সিনিয়র নেতারা।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবার ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। ঢাকায় ঈদ পালন করবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। ঈদ উদযাপনের পর তারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাবেন বলে জানা গেছে।

শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের সময় চিকিৎসার জন্য লন্ডনে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তবে এবার দেশে থাকায় ঈদুল আজহা কাটবে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’।

ঈদের দিন বেলা সাড়ে ১১টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটি সদস্য ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। পরে রাতে চেয়ারপারসনের সঙ্গে মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।

আর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে থাকায় তিনি তার এলাকায় স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় করবেন। সেখানে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।

গত ৬ মে চিকিৎসা শেষে দুই পুত্রবধূ-বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমানের (কোকো) স্ত্রী সৈয়দা শামীলা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া।

ইতোমধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের স্ত্রী ও দুই নাতনীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকালে ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমানের। সেখানে স্বামী তারেক রহমান এবং একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সঙ্গে তিনি ঈদ করবেন।

থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদের আগে ঢাকায় ফিরবেন বলে জানিয়েছেন শায়রুল কবির খান। মহাসচিব ঢাকার গুলশান আজাদ মসজিদে নামাজ আদায় করবেন।

এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গুলশান সোসাইটি মসজিদ, মির্জা আব্বাস শাহজানপুর ঈদগাহ ময়দান, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেরানীগঞ্জে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। ড. আব্দুল মঈন খান নরসিংদীর পলাশে নামাজ আদায় করবেন।

ছাড়া নজরুল ইসলাম খান বনানী ডিওএইচএস মসজিদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে, সালাহ উদ্দিন আহমদ কক্সবাজার, বেগম সেলিমা রহমান বনানীর বাসায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জে, হাফিজ উদ্দিন আহমদ বনানী বড় মসজিদ, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ধানমন্ডিতে নামাজ আদায় করবেন বলেও জানান শায়রুল কবির খান।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. ওসমান ফারুক যুক্তরাষ্ট্রে ঈদ করবেন। এ ছাড়াও বিএনপি ভাইস-চেয়ারম্যান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য, কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও সাবেক সাংসদ এবং সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করবেন বলে জানান শায়রুল কবির।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল নিজ এলাকা ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) আসন থেকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান।

তিনি জানিয়েছেন, এলাকায় ঈদ করবেন। আত্মীয় স্বজনদের পাশাপাশি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে চান।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসর রহমান তালুকদার খোকন নির্বাচন করতে চান মাদারীপুর-২ (কালকিনি-মাদারীপুর) আসন থেকে।

তিনি বলেন, ঈদ করতে ইতিমধ্যে মাদারীপুরে চলে এসেছি। গণসংযোগ কার্যক্রম চলছে। নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের সময় কাটাবো।

বরিশাল-৫ (সদর) আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, নিজ এলাকায় আত্মীয়-স্বজন ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ করব।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, এবারের ঈদের সময় বন্যা পূর্বাভাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থেকে সহযোগিতার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা আছে।

Advertisement
spot_img