সাবেক ১ নং পাহাড়তলীর কাউন্সিলর ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার

96

বিদেশে পালানোর সময় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। তৌফিক নগর যুবলীগেরও সদস্য। নিজ দলেরই সাবেক কাউন্সিলর হত্যাসহ গণঅভ্যুত্থানের সময়েও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে তার নামে।

Advertisement
spot_img

পুলিশ জানায়, তৌফিকের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনের সময় হামলা, অস্ত্র ও খুনের মামলা রয়েছে। এছাড়া ২০১৬ সালের ৫ মে হাটহাজারীর মির্জাপুরের যুবলীগ কর্মী নুরে এলাহীকে হত্যা মামলারও অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি তৌফিক। নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তৌফিক প্রয়াত নগর আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এরপর সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবেও রাজনৈতিক পরিচিতি ছিল তার। বর্তমানে তিনি নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

যুবলীগ কর্মী নুরে এলাহী হত্যা মামলায় ২০১৮ সালে ১৫ জুলাই অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ আদালতে কাউন্সিলর তৌফিককে আসামি করে চার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল। ওই অভিযোগপত্রে নুরে এলাহী হত্যার বিস্তারিত উঠে আসে।

আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল আফছারের নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন ছিল ২০১৬ সালের ৫ মে। ওই দিন বিকেলে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা শেষে সন্ধ্যায় হাটহাজারীর সরকারহাট বাজারে নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন নুরে এলাহীসহ ছয় থেকে সাতজন।

ঘণ্টাখানেক পর সেখানে আসেন কাউন্সিলর তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। একপর্যায়ে তিনি তাঁর হাতে থাকা একটি পিস্তল দেখিয়ে উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নতুন অস্ত্র কিনেছি, অনেক গুলি লোড করা যায়।’ এ কথা বলেই তিনি দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। নিচের দিকে আরেকটি ছোড়ার সময় নুরে এলাহী গুলিবিদ্ধ হন। মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে তৌফিক ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সরে পড়েন। ওই দিন রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান নুরে এলাহী।

Advertisement
spot_img