চট্টগ্রামের উচ্চশিক্ষায় নেতৃত্ব দিবে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়: মেয়র

130

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের উচ্চশিক্ষায় নেতৃত্ব দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বুধবার সকালে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, স্থাপত্য বিভাগ, গণিত বিভাগ ও ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত উইন্টার কার্নিভাল এন্ড পৌষ পার্বণ-২০২৫ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০০১-২০১৬ পর্যন্ত প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালের পরে রাজনৈতিক নানা কারণে এটি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে রূপান্তরিত হয়। এটি দুর্ভাগ্যজনক। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি সিটি কর্পোরেশনের বৈধ সম্পত্তি। এটি কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত হতে পারে না।

Advertisement
spot_img

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রী ও শহীদদের গভীরভাবে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “শুধু ২০২৪ সালের আন্দোলন নয়, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন— প্রতিটি সংগ্রামে ছাত্র-ছাত্রীদের অবদান রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের লড়াইয়ের ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরে এসেছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, দেশের মানুষ মুক্ত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখনো আমাদের লড়াই চলছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা যায়নি। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামও অব্যাহত আছে। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এই অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের ফলে আমরা আজ প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিকে তার প্রাপ্য অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। তাদের এই সাফল্যে আমি আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই।”
অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবে এবং ভবিষ্যতে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

উইন্টার কার্নিভাল এন্ড পৌষ পার্বণ-২০২৫ অনুষ্ঠানে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, স্থাপত্য বিভাগ, গণিত বিভাগ এবং ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজনের জন্য তিনি আয়োজকদের প্রশংসা করেন।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মৃত্তিকা দাশগুপ্তা ও শাহরিয়ার আবরার এবং গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী শোয়েব হাসান মুরাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট ও উৎসবের পৃষ্ঠপোষক রেজাউল করিম রণি এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সিনিয়র সদস্য ও উৎসবের পৃষ্ঠপোষক মো. আমিনুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ ইফতেখার মনির বলেন, কয়েকটি বিভাগের একত্র হয়ে একটি অনুষ্ঠান করার মধ্যে চ্যালেঞ্জ থাকে, ফলে ভিন্নমাত্রা থাকে। এই অনুষ্ঠানেও ভিন্নমাত্রা রয়েছে। চারটি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা সুনিপুণভাবে এই উৎসবটি সম্পন্ন করছে। মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এই অনুষ্ঠানে আগমন করায় আমি তাঁকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে অর্ধ শতাধিক পিঠার স্টল ছিল। স্টলগুলোতে বহু রকমের পিঠা ও খাবারের প্রদর্শনী ছিল। কোনো কোনো স্টলে পিঠা ও খাবারের পাশাপাশি কাপড় ও গহনা প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সহকারী ডিন প্রফেসর এম. মঈনুল হক, সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সাহীদ মো. আসিফ ইকবাল, আইন বিভাগের চেয়ারম্যান তানজিনা আলম চৌধুরী, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী, ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সঞ্জয় কুমার দাশ, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহেদুল কবির। আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, স্থাপত্য বিভাগ, গণিত বিভাগ ও ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

Advertisement
spot_img