উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, জুলাই-অগাস্টের শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে তার নামে চট্টগ্রামে একটা উড়াল সেতু এবং এখানে জুলাই স্মৃতি উদ্যান, শহীদদের স্মরণে করা হলো। যারা অন্যায় অবিচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গত ১৫ বছর সংগ্রাম করেছে তাদেরকেও স্মরণ করছি। কখনোই যেন ফ্যাসিবাদ ফেরত আসতে না পারে। আগামী প্রজন্ম যেন জুলাই অগাস্টের শহীদদের ত্যাগের কথা মনে রাখতে পারে সেজন্যই এই নামকরণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্রে ৬৯ একর আয়তনের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকাটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের দায়িত্বে। ১৯৫৪ সালে আবাসিক এলাকাটির জন্য জমি বরাদ্দ দেয় সংস্থাটি। এর মাঝে ২ দশমিক ১৭ একর আয়তনের ওই উদ্যানের নাম শুরুতে ছিল ‘পাঁচলাইশ পার্ক’।
টোল আদায়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম নগরের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার পর টোল আদায় কার্যক্রম উদ্বোধন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান।
এর আগে চট্টগ্রাম নগরের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নতুন নামফলক উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নামকরণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে স্মৃতিচিহ্ন তৈরি করছি। যেন সারাদেশের মানুষ ও আগামী প্রজন্ম তাদের অবদানের কথা জানতে পারে, স্মরণ করতে পারে। চট্টগ্রামের মানুষ সংগ্রামে সামিল হয়েছেন, আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যাতে সবসময় মনে রাখতে পারে তাদের অবদানের কথা এবং সেজন্যই এখানে আসা।’
বুধবার (১ জানুয়ারি) ‘চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার হতে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় পতেঙ্গা হতে ওয়াসা পর্যন্ত নির্মিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নাম ‘মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী সিডিএ ফ্লাইওভার’ পরিবর্তন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র ওয়াসিম আকরামের স্মরণে ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়ক’ নামকরণ হয়।
চট্টগ্রামের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে টোল দিয়ে ১০ ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে। তবে মোটরসাইকেল এবং ট্রেইলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সর্বনিম্ন ৩০ টাকা টোল দিতে হবে অটোরিকশা (তিন চাকা) চলাচলে।এছাড়া কার ৮০, জিপ ও মাইক্রোবাস ১০০, পিকআপ ১৫০, মিনিবাস ও ট্রাক (৪ চাকা) ২০০, বাস ২৮০, ট্রাক (৬ চাকা) ৩০০ ও কাভার্ডভ্যান চলাচলে ৪৫০ টাকা টোল দিতে হবে।