
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে যারা সশস্ত্র যুদ্ধ করেছেন তাদের কৃতিত্ব স্বীকার করতে চায় না আওয়ামী লীগ। বাঙালি শ্রমিক, সৈনিক, ছাত্র-জনতার মিলিত উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এ সাধারণ সত্যটি স্বীকার করতে রাজি নয় বর্তমান ক্ষমতাসীন দলটি।
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপুরে গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপি গঠিত উদযাপন কমিটির বৈঠক করেন দলটির নেতারা। সেখানে ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে হাফিজ বলেন, সাধারণ মানুষের যুদ্ধকে রাজনৈতিক যুদ্ধ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতা আমাদের আহত করে। দেশে গণতন্ত্র নেই, একটি মিছিল করার স্বাধীনতা নেই, এমনকি সংবাদপত্রের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই।
আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও বহির্বিশ্ব পরাশক্তি আজ আমাদের তাদের অধীন করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের যে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আমরা লক্ষ্য করছি, সেটির জন্য একটি রাজনৈতিক দল দায়ী।
৭১ সালের ছাত্রসমাজ আর এখনকার ছাত্রসমাজের অনেক পার্থক্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এই মুক্তিযোদ্ধা।
খালেদা জিয়া একজন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদে বলেন, তিনি তার স্বামীকে যুদ্ধে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। পাকিস্তানের অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের অস্ত্র জমা দিতে বারণ করেন। তিনি সৈনিকদের যুদ্ধে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপির কর্মসূচি
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২৫ মার্চ (সোমবার) রাজধানীতে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের আয়োজন করবে দলটি।
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির প্রচার বিষয়ক সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
কর্মসূচির প্রথম দিনে ২৫ মার্চ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ হবে। সমাবেশ সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১২টায় শেষ হবে।
স্বাধীনতা দিবসের দিন ২৬ মার্চ ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল সাতটায় গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের কার্যালয় থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওনা করবেন নেতাকর্মীরা। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
পরের দিন ২৭ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনার আয়োজন করেছে দলটি।
এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ আরো অনেক উপস্থিত ছিলেন।
















