ধণিক শ্রেণি অক্টোপাসের মতো রাজনীতিকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছ

143

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, আজ থেকে ১০৪ বছর আগে টুঙ্গিপাড়ার নির্ভৃত অজপাড়া গায়ে বঙ্গবন্ধু জন্ম গ্রহণ করেছিলেন বাংলাদেশের জন্মের জন্যই। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম ও অভ্যূদয়ের ইতিহাসে যে নামটি সর্বপ্রথম আসে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ইতিহাসের অংশই শুধু নন, ইতিহাসের ¯্রষ্টাও। এই ইতিহাস কেউ কখনো মুছে দিতে পারে নি এবং পারবেও না। তিনি আজ রোববার সকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য সোনার বাংলা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এটা বাস্তবায়নের পথে এখনো বহু বাধা বিদ্যমান। সবচেয়ে বড় বাধা হলো একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি ও তাদের দোসররা এখনো মাঠে আছে। তাদেরকে নির্মূল করতে না পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার দায়ভার আমরা যদি না নিই নতুন প্রজন্ম আমাদেরকে ক্ষমা করবে না। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু ভৌগলিক স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দেননি। দীর্ঘ ২৪ বছরের পাকিস্তানী শাসনামলে বাঙালির অধিকার বার বার ভূলুন্টিত হয়েছিল এবং এই জাতিকে শৃঙ্খলিত করে রেখে শোষণ-শাসনে স্টীমরোলার চালিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু এই সত্যটিকে অনুধাবন করে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা ছিল সামাজিক বৈষম্যমুক্ত একটি বিশুদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। যেই সমাজে শোষিতরাই হবে প্রকৃত ক্ষমতার উৎস। কিন্তু আজ স্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছি ধণিক শ্রেণি অক্টোপাসের আটটি পায়ে এদেশের সমাজ ও রাজনীতিকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। গড় পড়তা আয় ও প্রবৃদ্ধি বেড়ে গেলেও ধনী-গরিবের বৈষম্য দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করতে হলে কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হবে। একই সাথে যারা গরিব মানুষের হক কতল করছে এবং অসাধু ব্যবসায়ী ও মুনাফালোভীরা নানা কৌশলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লুটপাট করছে তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ শুরুর করার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সেই মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেবেন। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাছান মাহমুদ হাসনীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দীন চৌধুরী, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য একেএম বেলায়েত হোসেন, শেখ মাহমুদ ইছহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সৈয়দ হাসান মাহমুদ শমসের, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মসিউর রহমান চৌধুরী, হাজী মোঃ হোসেন, উপ প্রচার সম্পাদক শহিদুল আলম, নির্বাহী সদস্য ইঞ্জিনিয়ার বিজয় কৃষাণ চৌধুরী, হাজী রোটারিয়ান মোঃ ইলিয়াছ, হাজী বেলাল আহমেদ, থানা আওয়ামী লীগের আবুল মনসুর, হাজী সিদ্দিক আলম, জাহাঙ্গীর চৌধুরী সিইনসি স্পেশাল, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মোঃ জামাল উদ্দীন, ফয়জুল্লাহ বাহাদুর, আব্দুল আজিম, নুর মোঃ নুরু, লায়ম আশিষ ভট্টাচার্য, মিথুন বড়–য়া। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মহিলা সম্পাদিকা জোবাইরা নার্গিস খান, নির্বাহী সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, মহব্বত আলী খান, বখতেয়ার উদ্দীন খান, আলহাজ্ব পেয়ার মোহাম্মদ, ড. নিছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু, মোর্শেদ আক্তার চৌধুরী প্রমুখ।এর আগে সকালে দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও জাতীয় দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কলিম উল্লাহ চৌধুরী ও ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাজী জহুর আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

Advertisement
spot_img
Advertisement
spot_img