চট্টগ্রামের অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধনী

181

চট্টগ্রামে শুক্রবার শুরু হয়েছে পাঠকদের বহুল প্রত্যাশার অমর একুশে বইমেলা। মহানগরীর সিআরবি শিরিষতলায় বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মেলা উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। প্রথম দিনেই বিপুলসংখ্যক বইপ্রেমীর উপস্থিতিতে জমজমাট রূপ ধারণ করেছে বইমেলা।

Advertisement
spot_img

এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৯২টি প্রকাশনা সংস্থা। সিআরবির ৪৩ হাজার বর্গফুট জুড়ে ১৫৫টি স্টলে সাজানো এই বইমেলা চলবে ২ মার্চ পর্যন্ত। বইমেলাকে কেন্দ্র করে উৎসব আমেজে সেজেছে নান্দনিক সিআরবি এলাকা।

চট্টগ্রামে প্রতি বছর একুশে বইমেলার আয়োজন থাকলেও এবারই প্রথম সিআরবিতে হচ্ছে এই মেলা। খেলার মাঠে মেলার আয়োজন না করার নির্দেশনা থাকায় স্থান পরিবর্তন করতে হয়। তবে সিআরবির পরিবেশ নান্দনিক হওয়ায় রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতি বছর এখানেই বইমেলা করতে আগ্রহী সিটি কর্পোরেশন।

শুক্রবার বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপক মো. নাজমুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। এছাড়া শিল্প সংস্কৃতি ও রাজনীতি পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে একশে বইমেলার আয়োজক চসিক। মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে সহযোগিতায় রয়েছে চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ, চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন। এবারের মেলায় স্টলগুলোর পাশাপাশি থাকছে দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধু কর্ণার, লেখক আড্ডা কর্ণার, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত আসন ও শিশু কিশোরদের জন্য বিশেষ আয়োজন।

আয়োজনের বিভিন্ন দিনে থাকবে রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল উৎসব, লোকজ উৎসব, মরমী উৎসব, তারুণ্যের উৎসব, নৃগোষ্ঠী উৎসব, শিশু উৎসব, লেখক সমাবেশ, যুব উৎসব, নারী উৎসব, চাটগাঁ উৎসব, মুক্তিযুদ্ধ উৎসব, পেশাজীবী সমাবেশ, কবিতা আবৃত্তি ও ছড়া উৎসব, স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, কুইজ প্রতিযোগিতা, চিত্রাংকন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, গুণীজন সংবর্ধনা, সম্মাননা পদক এবং সাহিত্য পুরস্কার প্রদান। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলাঙ্গন উন্মুক্ত থাকবে।

ছুটির দিনে মেলা চলবে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। প্রতিদিন নতুন বইয়ের উন্মোচন এবং নির্ধারিত দিনে বিকেলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে।

Advertisement
spot_img