বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনে ধস, চরম দুর্ভোগে মানুষ

125

ঘূর্ণিঝড় মোকার প্রভাবে সারাদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনে ধস নেমেছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছে উপকূলীয় অঞ্চলসহ সারাদেশের মানুষ।  ঢাকাতেও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ভয়াবহ। এ অবস্থা আরও নাজুক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মোকার কারণে সৃষ্ট বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।

Advertisement
spot_img

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় মোকার আঘাত ভয়াবহ হবে এতে সন্দেহ নেই। ক্ষয়ক্ষতি না দেখে মেরামতে কতদিন লাগবে তা বলা মুশকিল। তবে বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে আসছে। যথাসম্ভব প্রস্তুতিও আছে। ফলে দ্রুততম সময়ে সবকিছু স্বাভাবিক করার যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে বলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ সূত্রে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেছেন, অতিদ্রুত গ্যাস বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে। সূত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার রাত থেকেই আমদানি করা তরল গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন অব্যাহত আছে। এমনিতে বহু আগে থেকেই গ্যাসের ঘাটতি ব্যাপক। শুক্রবার থেকে আরও ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ফলে গ্যাসচালিত অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়েছে। দেশে মোট বিদ্যুতের অর্ধেক উৎপাদন করা হয় গ্যাস দিয়ে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ৫ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে সারাদেশে প্রমাণিত চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াট। সেখানে উৎপাদন নেমে এসেছে সাড়ে ৯ হাজার মেগাওয়াটে। অর্থাৎ ঘাটতি কমবেশি ৭ হাজার মেগাওয়াট। রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে গতকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি এবং সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সংকট আরও নাজুক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমদানি করা এলএনজি প্রক্রিয়াজাত করা হয় কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে। এখানে সাগর উপকূলে এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। মোকার মূল টার্গেট বাংলাদেশের কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফ, সেন্টমার্টিনসহ আশপাশ এলাকা। ফলে আজ রোববার হয়তো জানা যাবে মোকার আঘাতে কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হলো এই এলএনজি টার্মিনাল। এই ক্ষয়ক্ষতির ওপরই নির্ভর করবে কত দ্রুত এই টার্মিনাল মেরামত করা সম্ভব হবে। শুক্রবার থেকে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৬০ কোটি ঘনফুট। গত বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলা সরবারহ করেছে ২৮০ কোটি ঘনফুট ৷ শনিবার তা নেমে আসে ২২০ কোটি ঘনফুটে। শুধু দেশি ক্ষেত্রগুলোর গ্যাস দিয়ে চাহিদা মেটানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার।

 বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতি

শনিবার রাজধানী ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় ছিল। রাজধানী ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে  ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান জানিয়েছেন, শনিবার তাঁর এলাকায় সর্বোচ্চ ৪৮০ মেগাওয়াট লোডশেড করতে হয়েছে। ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউসার আমীর আলী জানিয়েছেন, তাঁর এলাকায় ৩৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, তাদের এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে।

গ্যাস সংকটে চট্টগ্রাম, মেঘনাঘাট, হরিপুর ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কয়েকটির উৎপাদন কমানো হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মোকার কারণে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সাড়ে ৯ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখার স্বার্থে সব বিদ্যুৎ বিতরণ ইউটিলিটি, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গ্রিড উপকেন্দ্রকে এনএলডিসির নির্দেশনা মেনে চলার জন্য পরামর্শ দিয়েছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি)। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়লে তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা দিনে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেতেন, এখন তা নেমে গেছে ৬০ থেকে ৭০ কোটি ঘনফুটে। তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এরপরও ৫ হাজার মেগাওয়াটের মতো ঘাটতি রয়েছে। এখন বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি।

Advertisement
spot_img