
করোনা পরবর্তী বৈশ্বিক মন্দা , বিশ্বব্যাপী চরম মুদ্রাস্ফীতি এবং পরবর্তীতে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৷ আমরা সবাই জানি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমানের উপর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল ৷ বিশেষ করে আমাদের মত দেশে যেখানে রপ্তানির চেয়ে আমদানি বাণিজ্যের পরিমান সবচেয়ে বেশী সেখানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমানকে অর্থনীতির অন্যতম নিয়ামক হিসাবে মনে করা হয় ৷
গতকাল ৯ মে ২০২৩ তারিখে দেশের জনপ্রিয় সকল দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায় এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের ( আকু ) বিল পরিশোধ করায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে আরও ১১৮ কোটি ডলার বা ১.১৮ বিলিয়ন ডলার কমেছে ৷ এতে রিজার্ভ কমে দাড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে যা গত সাত বছরে সর্বনিন্ম পর্যায়ে ৷ কিন্তু আইএমএফ এর মানদন্ড অনুযায়ী ব্যবহার যোগ্য রিজার্ভের পরিমান আরও ৬.৪ বিলিয়ন কম হবে ৷ সেটা বিবেচনা করলে এখন বাংলাদেশের ব্যবহার যোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হবে ২৩.৩৭ বিলিয়ন ডলার ৷
২০২১ সালের আগষ্ট মাসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথম বারের মত ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল ৷ কিন্তু এর আগে সর্বপ্রথম দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০১৬ সালের এপ্রিলে প্রথম বারের মত ২৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছিল ৷ বর্তমানে করোনা পরবর্তী বৈশ্বিক মন্দা , ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে বেশীর ভাগ জিনিষ পত্রের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বাড়ার কারনে রিজার্ভের পরিমান ধারাবাহিক ভাবে কমছে ৷
সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলংকা নিজেদেরকে দেওলিয়া ঘোষনা করার পর অনেকে আশংকা প্রকাশ করেছিল আগামী কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থাও শ্রীলংকার মত হবে ৷ কিন্তু বাস্তবে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কারনে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল পর্যায়ে আছে ৷ বিশেষ করে নানা ভাবে আমদানি ব্যয় কমানোর মাধ্যমে , রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো এবং আইএমএফ এর লোনপ্রাপ্তিসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহনের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনও সহনীয় পর্যায়ে আছে ৷
আমরা সবাই জানি একটা দেশের তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য রিজার্ভ থাকলে সেটাকে আদর্শ মান হিসাবে বিবেচনা করা হয় ৷ বাংলাদেশে এখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যে পর্যায়ে আছে সেটা দিয়ে অন্তত ৪ মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব ৷ সে হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বর্তমান স্তরেও আমাদের আতংকিত হওয়ার কিছু নেই ৷
বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা ও ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্বস্তি ফেরাতে আমদানি ব্যয় কমানোর ( প্রয়োজনে বিলাসবহুল পন্য আমদানি বন্ধ করা ) পাশাপাশি রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর বিষয়ে কার্যকর ও ফলপ্রসু পদক্ষেপ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহন করা হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডলার সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছে সচেতন নাগরিক মহল ও অর্থনীতিবিদরা ৷
লেখক :প্রফেসর মিঞা মো. ইউসুপ চৌধুরী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান , চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ , চট্টগ্রাম সেনানিবাস , চট্টগ্রাম ৷
















