বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস আজ : দুজন বাহকের মধ্যে বিয়ে বন্ধ করা গেলেই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব

138
থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে এমন একটি রোগ, যেটি উত্তরাধিকারসূত্রে হয়ে থাকে। আর এ রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে রক্তের ব্যাধি হয়ে থাকে, যা শরীরের হিমোগ্লোবিন এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। থ্যালাসেমিয়ার মতো মরণব্যাধি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে প্রতি বছর ৮ মে পালিত হয় বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। এই রোগে আক্রান্তদের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই বাংলাদেশে। তবে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সেন্টারের মতে সেখানে নিবন্ধনকৃত রোগীর সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি।

বছরে প্রায় এক লাখ নবজাতক গুরুতর থ্যালাসেমিয়াসহ নিয়ে থাকে। আর ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলো যেমন মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোয় এ সমস্যা বেশি থাকলেও গ্লোবালাইজেশনের কারণে এখন পৃথিবীর সব দেশেই এ রোগী পাওয়া যায়। থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গ থ্যালাসেমিয়া রোগের ধরনের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। বিটা থ্যালাসেমিয়া এবং কিছু ধরনের আলফা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুর মধ্যে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে এর পরে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আসুন জেনে নিই থ্যালাসেমিয়া হলে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

Advertisement
spot_img

জন্ডিস ও ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া : থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণে শিশুদের জন্ডিস হতে পারে এবং তাদের ত্বক ফ্যাকাশে দেখাতে পারে।

২. তন্দ্রা ও ক্লান্তি: থ্যালাসেমিয়া হলে অনেক বেশি পরিমাণে তন্দ্রা লেগে থাকা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

৩. বুকে ব্যথা: থ্যালাসেমিয়ার কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে।

৪. হাত পা ঠণ্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫. নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৬. থ্যালাসেমিয়ার কারণে পায়ে ক্রাম্প হতে পারে।

৭. থ্যালাসেমিয়া হলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।

৮. অনেক সময় থ্যালাসেমিয়া হলে শিশুরা আর খেতে চায় না বা খাবারে অনীহা দেখা দিতে পারে।

৯. থ্যালাসেমিয়ার কারণে শিশুদের বৃদ্ধিতে বিলম্ব দেখা দিতে পারে বা শিশুরা ঠিক মতো বেড়ে ওঠে না।

১০. অনেক সময় মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

১১. মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

১২. ইনফেকশন বা সংক্রমণে সহজেই প্রভাবিত হওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থ্যালাসেমিয়া কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, তেমনি রক্তের ক্যানসারও নয়। জিনগত ত্রুটির কারণে এই রোগে অস্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় বলে লোহিত রক্তকণিকা সময়ের আগেই ভেঙে যায়। ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। ক্লিনিক্যালি থ্যালাসেমিয়া তিন ধরনের হতে পারে। সবচেয়ে তীব্র ও জটিল ধরন ‘মেজর’ হিসেবে পরিচিত। আছে ‘ইন্টারমিডিয়েট’ বা মধ্যম পর্যায়। আবার ‘মাইনর’ ধরনের উপসর্গ মৃদু থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়।

ত্রুটির ধরন অনুযায়ী থ্যালাসেমিয়ার অনেক প্রকারভেদ আছে। যেমন: বিটা থ্যালাসেমিয়া, ই বিটা থ্যালাসেমিয়া, হিমোগ্লোবিন ই ডিজিজ, আলফা থ্যালাসেমিয়া, এস বিটা থ্যালাসেমিয়া, হিমোগ্লোবিন এস ডিজিজ, হিমোগ্লোবিন ডি পাঞ্জাব, হিমোগ্লোবিন ডি আরব ইত্যাদি। থ্যালাসেমিয়ার বাহক আর থ্যালাসেমিয়ার রোগী এক নয়। বাহকের তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না, তেমন কোনো চিকিৎসাও লাগে না। তবে একজন বাহক পরবর্তী প্রজন্মে রোগ বহন করতে সক্ষম।

Advertisement
spot_img