দলীয় সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনই এ দেশের জনগণ মেনে নেবে না-মুফতী ফয়জুল করীম

34

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, জাতীয় সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনই এ দেশের জনগণ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আজ আতঙ্কিত, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। দেশে সংঘাত আর সহিংসতার অশনি সঙ্কেত পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নবম জাতীয় সংসদে এক তরফাভাবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করার পর থেকেই রাজনৈতিক সঙ্কটে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আমরা বারবার রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণের দাবি জানিয়ে আসছি। দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সঙ্কট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলে আসলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

Advertisement
spot_img

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলার উদ্যোগে শহরস্থ গ্র্যান্ড সোলতান কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, কেন্দ্রীয় সহ দপ্তর সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মাওলানা নুরুল করিম আকরাম। জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা নুরুল করিমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আলহাজ্ব মাওলানা একরামুল হক ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুয়েত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শায়খ আবদুল্লাহ হারুন, ওমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা মীর আহমদ মীরু, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের জেলা সভাপতি মুফতি ইউসুফ কাসেমী, জেলা উপদেষ্টা মাওলানা কাজী গোলাম কিবরিয়া, মাওলানা নুরুল করিম বেলালী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা গাজী এনামুল হক ভূঁইয়া, হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, বামুকের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নাসির উদ্দিন, জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা কে এম বেলাল হোছাইন পাটোয়ারী, সাংগঠনিক মুফতি আব্দুর রহমান ফরহাদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি তৈয়ব সোলতানী, ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আলাউদ্দিন সাবেরী, জেলা শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা নুর মোহাম্মদ আজমী, যুব আন্দোলনের জেলা সভাপতি মুফতি সালাহুদ্দিন আইয়ুবি, ছাত্র আন্দোলন জেলা সভাপতি এইচএম নুরুজ্জামান।
মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলেছে। বিগত প্রায় ১৪ বছর দেশে কোনো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতেও জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। ক্ষমতাসীনরা তাদের দলীয় লোকদের নির্বাচিত করার জন্যে এমন কাজ নেই যা করেনি। নির্লজ্জভাবে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন কেউই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি। ফলে নির্বাচনকে মানুষ এখন প্রহসন এবং তামাশা মনে করে। আগামীতে মানুষ আর তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচন দেখতে চায় না।
তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্কটে জর্জরিত। আধা পেট খেয়ে থাকছেন অনেকে। কিন্তু দুর্নীতি, লুটেরাদের দাপট কমছে না। বিদেশে পাচারের টাকা ফেরত আনা হচ্ছে না। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।
অবিলম্বে রেজাউলের খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে অনুষ্ঠিত যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের শান্তি সমাবেশে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে হাফেজ রেজাউল করিমকে নির্মমভাবে হত্যা করে শান্তি সমাবেশের আসল চরিত্র প্রকাশ করা হয়েছে ‘আলেম-হাফেজের খুনিদের আড়াল করলে এই সরকার খুনি সরকার হিসেবে পরিগণিত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, দেশ ও স্বাধীনতা আজ হুমকির মুখে। দেশ আজ পরের দেশের তাঁবেদারিতে চলে গেছে। সেখানে থেকে যেভাবে যে সিদ্ধান্ত হয়, সেভাবেই আমাদের বাংলাদেশকে পরিচালিত হতে হয়। এ দেশের স্বাধীনতার জন্য লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন। প্রয়োজনে দেশকে রক্ষায়, ইসলাম রক্ষায়, ইমানের রক্ষায় আমরা আরেকটি স্বাধীনতাযুদ্ধ করব।’

Advertisement
spot_img