ওদের স্বপ্নটা আরও বড় হয়ে গেল

41

মিরপুর স্টেডিয়ামের একাডেমি ভবনের সামনে একটি বাস দাঁড় করানো। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকে ৩০ জনের মতো খুদে ক্রিকেটারদের একটি দল এসেছে। তাদের বেশিরভাগই অনূর্ধ্ব-১৪ ও অনূর্ধ্ব-১৬ দলের খেলোয়াড়।

Advertisement
spot_img

প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার সুযোগ হয় তাদের। ট্রফি দেখতে আসার আনন্দে চোখে মুখে ভেসে উঠেছে খুদে ক্রিকেটারদের। ট্রফির সঙ্গে ফটো সেশনের পর সে অনুভূতি প্রকাশ করেছে কালবেলার কাছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার পর ক্রিকেট ঘিরে স্বপ্নটা আরও বড় হয়ে গেছে।

২৪ ঘণ্টা আগেও ট্রফি দেখতে পাবে জানত না তারা। গতকাল সোমবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে বিসিবি থেকে জানার পর তাদের মধ্যে একটা বাড়তি উত্তেজনা কাজ করে।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়া জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের ভাতিজা তানজিদ আহমেদের অনুভূতিই অন্যরকম। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো লাগছে। ট্রফি দেখার জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছি, অবশেষে দেখলাম। ইনশাল্লাহ আবারও দেখব, যখন বাংলাদেশ জিতে ট্রফিটা নিয়ে আসবে।’

রাতে খবরটি শোনার পর ঠিকমতো ঘুমাতেই পারেনি বাঁহাতি এ অফস্পিন অলরাউন্ডার। তানজিদ বলেন, ‘হ্যাঁ রাতেই খবরটা জানলাম। এরপর আর ঘুম ঠিকমতো হয়নি। চিন্তায় ছিলাম ট্রফি দেখতে পারব নাকি, মনে হচ্ছিল যদি বৃষ্টি হলে না দেখতে পারি।’

ট্রফি দেখতে আসা আরেক খুদে ক্রিকেটার জানালেন ভিন্ন অভিজ্ঞতা। বিসিবির অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ক্যাম্পে থাকা এ ক্রিকেটারের মতে স্বপ্নটা বড় হয়ে গেল।

এই ক্রিকেটার বলেন, ‘ট্রফিটা দেখে স্বপ্নটা আরও বড় হয়ে গেল। ইচ্ছে ছিল খেলব, এখন ইচ্ছে করতেছে বিশ্বকাপ বাংলাদেশে এলে আরও ভালো লাগবে। এ স্বপ্ন তো দেখিই (একদিন বিশ্বকাপ জেতার)।’

খুদে এ ক্রিকেটারদের দলের সঙ্গে এসেছিলেন বিকেএসপির ক্রিকেট কোচ লিটন ঘোষ। ক্রিকেটারদের খুব কাছ থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখানোর সুযোগকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওদের বড় ভাই যারা এখন জাতীয় দলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন; সাকিব (সাকিব আল হাসান) থেকে শুরু করে মুশফিকুর রহিমরা বেশিরভাগই বিকেএসপির। এটাই তো ওদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। তাদের রোল মডেল করেই কিন্তু এরাও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। এই যে বিশ্বকাপ ট্রফির সামনে ওরা দাঁড়াল, এতেই ওদের বুকটা গর্বে ভরে উঠবে। এটাকে তাদের অনুপ্রেরণা করে স্বপ্নটা অনেক বড় হয়ে যাবে। তাদের ভাবনায় আসবে আমাদের ভাইয়ারা না পারলে আমরা একদিন পারব। এটাই বড় পাওয়া।’

Advertisement
spot_img