অসহনীয় দামে নাকাল মানুষ, কোন পণ্যের দাম একবার বাড়লে কমার নাম নেই

94
বেশি দামের কারণে মাছ মাংস কিনতে না পারলে সবজি দিয়ে ভাত খাবে সেই সুযোগ যেন নেই সাধারণ মানুষের। বাজারে ৬০ টাকার নিচে কোন সবজি নেই। কিছু কিছু সবজির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এতে সংসার চালাতে আরও হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেই বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। অসহনীয় দামে নাকাল মানুষ, কোন পণ্যের দাম একবার বাড়লে কমার নাম নেই।
টমেটোর দাম বাড়ার বিষয়ে বিক্রেতা নুর মিয়া বলেন, ভারত থেকে টমেটো আমদানি কমে গেছে। শুনেছি সেখানেই নাকি এখন অনেক দাম। যার কারণে দেশে টমেটোর দাম এত বেড়েছে।
এদিকে ঝাঁঝ কমলেও নাগালের মধ্যে আসেনি কাঁচা মরিচের দাম। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে। যদিও কিছুদিন আগে কাঁচা মরিচের দাম ৭০০ টাকা পর্যন্ত উঠে ছিল। পরে আমদানির অনুমতি দেয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
মরিচ বিক্রেতা ইউসুফ  বলেন, পাইকারিতে আমরা যেই দামে কিনি খুচরায় তার চেয়ে কিছু টাকা লাভ রেখে বিক্রি করি। আমরা মরিচের দাম বাড়ানো কমানোর সঙ্গে জড়িত নই। যারা বড় বড় ব্যবসায়ী তারাই এটা করে থাকে। এখন তো বর্ষায় মরিচের ক্ষেতে পানি উঠেছে সেজন্য মরিচ নষ্ট হয়ে গেছে। মরিচের টান পড়ায় দাম বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, জালি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা আর গোল বেগুন ১০০ টাকা, করলা (বড় সাইজ) ১২০ টাকা, করলা (ছোট) ১০০ টাকা, কাকরোল ৭০ টাকা, ধুন্দুল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়াও মূলা ৬০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, টমেটো ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি আলু এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।
অন্যদিকে বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকার মধ্যেই আটকে আছে। ব্রয়লার প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। সোনালি মুরগির কেজি ২৮০ থেকে ৩৩০ টাকা। আর প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।
এদিকে গেল সপ্তাহে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা এবং খোলা পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয়া হলেও বাজারে তার কোন প্রভাব দেখা যায়নি। দাম কমানোর পর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৭৯ টাকা হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু তা আগের দাম ১৮৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে কমেছে ৫ টাকা। খোলা সয়াবিন ১৫৯ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা দরে। আর ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৪৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭৩ টাকা, দাম না কমায় তা বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯১০ টাকায়।
দাম না কমানোর বিষয়ে সেই পুরোনো যুক্তিই দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, মিল থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে পাইকাররা বেশি দামে বিক্রি করছেন। যার ফলে খুচরা ব্যবসায়ীদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন খুচরা বাজারে কোথাও মিলছে না প্যাকেটজাত চিনি। গত কদিনের ব্যবধানে এ পণ্যটির দাম আরও বেড়ে এখন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কোথাওবা ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম রাখা হচ্ছে। এ যেন দুর্লভ দ্রব্যের রূপ নিয়েছে।
এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার মধ্যে। রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে। শুকনা মরিচ সর্বোচ্চ ৪৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া রুই মাস বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪৫০ টাকা কেজি দরে। ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৪০০ টাকা কেজি দরে।
এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান  বলেন, নিত্যপণ্যের দাম কমাতে সর্বপ্রথম মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। আমাদের মনিটরিং পলিসিতে দুর্বলতা রয়েছে। মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা অন্ধ হয়ে গেছে। তাদের সিন্ডিকেট না ভাঙতে পারলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।
Advertisement
spot_img