যুক্তরাজ্যে ড. ইউনূসের সাক্ষাত চেয়ে চিঠি দিলেন টিউলিপ

112

যুক্তরাজ্যের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এক চিঠিতে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান নিয়ে যে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ তৈরি হয়েছে, তা মীমাংসা করতে চান তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

Advertisement
spot_img

সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, সম্প্রতি ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে পাঠানো চিঠিতে টিউলিপ লিখেছেন, ‘আমি যুক্তরাজ্যের একজন নাগরিক, লন্ডনে জন্মেছি এবং গত এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিনিধিত্ব করছি।’

‘বাংলাদেশে আমার কোনো সম্পত্তি নেই এবং সেখানে কোনো সম্পত্তি বা বাণিজ্য করার কোনো আগ্রহ বা পরিকল্পনা আমার ছিল না, এখনও নেই। আমি বাংলাদেশকে হৃদয় দিয়ে ভালবাসি, কিন্তু দেশটি আমার জন্মভূমি নয়। আমি যুক্তরাজ্যেই বড় হয়েছি, বেড়ে উঠেছি এবং নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করেছি।’

‘আমি দুদকের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করতে চেয়েছি। লন্ডনে আমার আইনজীবীরা এ ইস্যুতে দুদকের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে কিন্তু দুদক আমার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে চায়নি। তারা আমাকে তলব করে ঢাকার যে ঠিকানায় চিঠি পাঠাচ্ছে, সেটিও সঠিক নয়।

‘এই যে একটি অলীক অনুসন্ধান দুদক শুরু করেছে— তার প্রতিটি পদক্ষেপ মিডিয়ার সামনে প্রকাশ করা হচ্ছে এবং তা করা হচ্ছে আমার লিগ্যাল টিমের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ না করেই।’

‘আপনি যুক্তরাজ্য সফরে আসছেন। আমি আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী। আমার সঙ্গে আমার মায়ের বোন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পর্ক নিয়ে যেসব ভুল ধারণা বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের বরাতে ছড়িয়ে পড়েছে, আমি আশাবাদী যে আপনার সঙ্গে আমার সাক্ষাতের পর সেসব দূর হবে।’

টিউলিপ সিদ্দিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার কন্যা। যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে সক্রিয় এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক ২০১৫ সাল থেকে পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর, তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে দুদক। ওই সময় টিউলিপ ছিলেন যুক্তরাজ্যের নগর উন্নয়ন ও ট্রেজারি বিষয়ক মন্ত্রী।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আসে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। এছাড়া শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে উপহার হিসেবে লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।

যদিও টিউলিপ দাবি করেন, ফ্ল্যাটটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন এবং এর উৎস সম্পর্কে জানতেন না। যুক্তরাজ্যের দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করলেও, রাজনৈতিক চাপের মুখে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

প্রসঙ্গত, রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে ৯ জুন যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। সফরকালে তার যুক্তরাজ্যের রাজা এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

Advertisement
spot_img