হিংসার লীলা খেলায় এ পৃথিবী মত্ত! @ ড. মো: সামছুল আলম শামীম

209

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত অর্থাৎ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জীব। শ্রেষ্ঠতম জীব এর জন্যই যে, মহান সৃষ্টিকর্তা মানুষকে বিবেক- বুদ্ধি-বিবেচনা দিয়েছেন যা অন্য কোন প্রাণীর বেলায় দেননি। এই বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান যে ব্যক্তি/ ব্যক্তিবর্গ সঠিকভাবে পরিচর্যা করে পরিচালিত করে সেসব সমাজ আলোকিত সমাজ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। সঠিক পথে তারাই সমাজের সু-শিক্ষিত ও প্রকৃত মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে কেননা তারা বহুমাত্রিক গুণে গুণান্বিত হয়।
এ ধরনের জাতির মধ্যে থাকে না কোন হিংসা-বিদ্বেষ, বিভেদ, যাতনা ও ষড়যন্ত্র। তাই তারা হয় উদারমনা এবং স্বাধীনচেতা জাতি। আত্মশুদ্ধিৱ মাধ্যমে আত্মমর্যাদা অর্জন করাই হয় তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আর এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণটাই হচ্ছে স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য। পৃথিবীর ইতিহাস ঘাটলে তাই পাওয়া যায়। জাতি- ধর্ম -বর্ণ নির্বিশেষে যার উদাহরণ পৃথিবীতে আছে ভুরি ভুরি।
আর যারা পারেনি তারা হিংসার লীলা খেলায় এ পৃথিবীতে মত্ত!
আসুন দেখি, আমাদের দেশের বেলায় কি হচ্ছে? বিষয়টি সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করতে চেষ্টা করি, তা হচ্ছে নিম্নরূপ:
১. সু-শিক্ষিত মানুষের অভাব
২. সামাজিক মূল্যবোধের অভাব
৩. দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজ ব্যবস্থাপনা
৪. চরম হিংসা বিদ্বেষ ও সহিষ্ণুতার অভাব
৫. দেশপ্রেমের অভাব
৬. স্রষ্টার প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার অভাব
৭. সুশাসন ও আইনের প্রয়োগের অভাব
৮. বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপের প্রবণতা
৯. অন্য দেশের প্রতি অধিক পরিমাণে নির্ভরশীলতা
১০. স্বাধীনতাই পরাধীনতা’র গ্লানিকে আপন করে নেওয়ার প্রবণতা
১১. আভ্যন্তরীণ সম্পদ ও নিরাপত্তা প্রতি অবহেলা
১২. জাতীয় বীর সন্তান ও মেধা সম্পন্ন লোকদের মেধাকে কাজে না লাগার প্রবণতা
১৩. ক্ষমতাই বল ক্ষমতা অর্জন একমাত্র লক্ষ্য
১৪. দারিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাব
১৫. জাতীয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি নীতিৱ সঠিক পরিকল্পনার অভাব
১৬. শহরে অঞ্চলকে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনার অভাব
১৭. রাজনৈতিক সহিষ্ণুতার অভাব
১৮. বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদদের অভাব
উপরের পয়েন্টগুলো আমাদের দেশে কতটুকু সেভাবে আছে সেটাই বিবেচ্য বিষয়। যদি থাকতো তাহলেতো আমাদের দেশ “সোনার বাংলা’য় রূপান্তরিত হয়ে যেত আর নেই বলেই সোনার বাংলা হতে আর কতদিন লাগবে, কে জানে? আমরা সে প্রত্যাশাই করি আমাদের দেশটি হোক “সোনার বাংলাদেশ”।
হোক এদেশের মানুষগুলো হিংসা বিমুখ, থাকুক তাদের মধ্যে দেশকে ভালোবাসাৱ অদম্য স্পৃহা। স্বাধীনতাই পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তি পাক এ জাতি। তবেইতো জাগ্রত হবে স্বাধীনচেতা স্বাধীন দেশের নাগরিকত্বেৱ। এসো হিংসা, সহিংসা, বিভেদ, বিদ্বেষ ভুলে হই মোরা জাগ্রত জনতা, কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বলি:
হিংসা করে যারা
হিংসার জগতে
বাস করে হয় রাজা
মানুষ কি হয় তারা?
হিংসাৱ যত জ্বালা
জ্বলে পুড়ে হয় কালা।
অন্তরে বিষ রেখে
মুখে মধু মাখে তাৱা।
আসল রূপটা
বোঝা যায় দেরিতে,
ততক্ষণে কাজটা;
সেরে ফেলে নির্বিঘ্নে।
রহমতেৱ পাশ কেটে
হয়ে ওঠে দানব সেজে।
আসল রূপটা
চেনা বড় দায় তাৱ।
মিথ্যা গুজবে
থাকে তাৱা সরবে।
মিশে গেছে রক্তে
শান্তি পাবে, কোনক্ষণে?
পরের ক্ষতি মাথায় রেখে
নিজের ক্ষতি হয় শেষে।
হিংসা আত্মব্যাধি
বিনষ্ট করে মনের শান্তি।
দিনে দিনে দিন যায়
তবুও তাদেৱ হুশ নাই।
বোঝাবে কে?
হুস তাদেৱ নাই যে।
হিংসা করে যারা
হিংসার জগতে
বাস করে হয় রাজা
মানুষ কি হয় তারা?

Advertisement
spot_img
Advertisement
spot_img